Showing posts with label Golpo. Show all posts
Showing posts with label Golpo. Show all posts

বউ হবে কী?

বউ হবে কী?
পর্ব ০৯(শেষ)

এদিকে সোহান চারুর জন্য অপেক্ষা করে না পেয়ে বেশ চিন্তাই পড়ে গেলো।সে চারুর ভিতর কিছু একটার আন্দাজ করতে পেরেছে।
চারু রুমে ঢুকে তার সবকিছু গুছিয়ে নিলো।নিজের গা থেকে সোহানের দেওয়া শাড়িটা খুলে ফেললো।একটা প্রতারকের শাড়ি তার শরীরটাকে নোংরা করে দিবে।
নিজের সবকিছু চারু ব্যাগে ভরে টেবিলের উপর রেখে দিলো।চোখটা মুছে সোহানের রুমে চলে গেলো।তার সেই চিঠিটা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে সোহানের ডাইরির উপর রেখে দিলো।ড্রয়ার থেকে তার অপারেশনের রিপোর্টটা বের করে নিলো।
রিপোর্টা বুকে জড়িয়ে ধরলো।সোহানকে সে একটা ধন্যবাদ জানালো।প্রতারনা করলেও তাকে সে সঠিক পথে ফেরাতে পেরেছে।নিজেকে পবিত্র রাখতে শিখেয়েছে।একটা মিত্যুর হাত থেকে তাকে বাচিয়েছে।
সে আর একটুও সোহানের রুমে দাড়ালো না।চুপটি করে নিজের রুম থেকে ব্যাগটা নিয়ে রুমটা আটকে দিলো।কিছুদুর সামনে এগোতেই হটাৎ তার পা দুটো থেমে গেলো।খেয়াল করলো তার সামনে সোহান দাড়িয়ে রয়েছে।কিন্তু চারু সোহানের দিকে তাকালো না।
সোহান ঘেমে গিয়েছে।সারাটা পথ হইতো দৌড়ে এসেছে সেজন্য এই ঠান্ডার ভিতর তার কপালটা ঘেমে গিয়েছে।চারুকে দেখে দৌড়ে সে চারুর কাছে চলে গেলো।চারুর দিকে তাকিয়ে দেখে চারু কান্না করছে।
চারুর কাধে সোহান হাত রেখে,,
---আমাকে না জানিয়ে হটাৎ হোটেল থেকে চলে এলে কেন?আর তুমি এভাবে কাদছো কেন?
--- ...........??
---কি হলো?কিছু বলছো না যে?কেউ কি তোমাকে মেরেছে?
--- .........??
চারুর কোনো আওয়াজ না পেয়ে সোহান চারুর মুখটা উচু করতেই। ঠাস ঠাস ঠাস।
সোহান নিরবে মুখে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইলো।সে ভাবতেও পারছে না চারু কেন তার গায়ে হাত তুললো?
---ওই মেয়েটাকে আনতে পারেন নি?যান গিয়ে আপনার বউ আর বাচ্চাটাকে আদর করুন।আপনার লজ্জা করেনা একটা বাচ্চা থাকতে আপনি অন্য আরেকটা মেয়ের সুযোগ নিতে চান।
কথাগুলো বলে ধাক্কা দিয়ে সোহানকে সড়িয়ে দিলো।বাইরে যেতেই হটাৎ পিছন থেকে সোহান চারুর হাতটা চেপে ধরলো।সোহানের চোখদুটো জলে টলমল করছে।
---চারু তুমি আমার পুরো কথাটা এক.....
---আপনি যদি আরেকটা কথা বলেন?তাহলে আপনি আমার লাশ দেখবেন।হাতটা ছাড়ুন বলছি?
কথাটা আর তার বলা হলোনা।হাতটা হটাৎ করেই চারুর হাত থেকে পড়ে গেলো।সোহান আর কিছু বলতে পারলো না।না পারলো কাদতে আর না পারলো কিছু বলতে?একদিকে চারু কান্না করতে করতে চলে গেলো।অন্যদিকে সোহান চুপচাপ রুমে চলে গেলো।

দুজনের ভিতরই রয়ে গেলো তাদের লুকোনো কথাগুলো।হইতো এরা আশা করেনি আর তাদের কোনদিন দেখা হবে?সোহানকে আর সেদিনের পর কোথাও দেখা যাইনি।চারদিকে সবকিছু চুপচাপ ভাবে ঘটেই চলেছে।কেউ আর বাইরে কখনো একটা ছেলেকে দেখতেই পাইনা।ধীরেধীরে চারদিকে আবার সেই পুরোনো খারাপ কাজগুলো শুরু হয়ে গিয়েছে।সবাই তখন শুধু একজনের পথের দিকেই তাকিয়ে থাকে।কিন্তু তাকে যে আর দেখা যায়না।ছেলেটা কি তাহলে আগের মতো নেই?নাকি অনেক আগেই সবার থেকে বিদায় নিয়ে কোনো এক একাকিত্বের দুরের দেশে পাড় জমিয়েছে?
-
কুয়াশা বেশ ঘন হয়ে গিয়েছে।এই ঠান্ডাটা হইতো গরিবের জন্য খুব বেদনাদায়ক।একটা মেয়ে কাপতে কাপতে বাজারের দিকে এগোচ্ছে।শরীরে রয়েছে হালকা একটা কাপড়।শরীর দেখে মনে হচ্ছে কয়েকদিন পেটে কিছু পড়েনি।চোখের নিচটা কালো রঙে ছেপে গিয়েছে।একা একা চুপি চুপি মেয়েটাকে ধীরে ধীরে বাজারের ভিতর ঢুকতে দেখা যাচ্ছে।
বাজারের এক প্রান্তে চলে গেলো মেয়েটা।মনে হচ্ছে মেয়েটার কাছে টাকা নেই।তাই নষ্ট সবজির দিকেই তার পা দুটোকে এগোতে দেখা যাচ্ছে।
সবজির দোকানে গিয়ে কিছু সবজি নিয়ে আবারো হেটে চললো।মুখদুটো শুকনো হয়ে গিয়েছে।ঠোটদুটো ফেটে একাকার।চোখে একটা চশমা দেখা যাচ্ছে।

হটাৎ হাটার পথে কে যেন মেয়েটির গায়ে একটা চাদর জরিয়ে দিলো।পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলো,,
---এই তুমি চারু না?
কথাটা শুনে মেয়েটি দাড়িয়ে পড়লো।পাশ থেকে চারু তাকাতেই খেয়াল করলো মেয়েটি আর কেউ না?মেয়েটি রিতু।পাশেই রয়েছে রিতুর ছেলে।চারু একটা মুচকি হাসি দিয়ে রিতুর ছেলেকে কোলে তুলে নিলো।
---রিতু তোমাদের ছেলেটা অনেক সুন্দর হয়েছে।
---হুম।তুমি হটাৎ এই শীতের ভিতর এভাবে পাগলের মতো কোথাই যাচ্ছো?
---এইতো বাসার দিকে।(একটা ঘোর নিষ্শাষ ছেড়ে দিয়ে)
---সেদিন তোমাকে আর দেখতে না পেয়ে খুব খারাপ লেগেছিলো।তুমি না অনেক ভাগ্যবান সোহানের মতো একটা ছেলেকে পেয়ে।তো তুমি একা কেন?সোহান কোথাই?
---সোহান?ওর তো তোমার সাথে থাকার কথা?(অবাক হয়ে)
---চারু তুমি এসব কি বলছো?সোহান কেন আমার সাথে থাকবে?
এবারের কথাটা শুনে চারু থেমে গেলো।
---তুমি সোহানের বিবাহিত বউ না?
---কিসব বাজে কথা বলছো??সোহান তো আমার খুব ভালো বন্ধু।
রিতুর কথা শুনে চারু অবাক হয়ে যাই।১ বছর পরেও কথাটা শুনে চারু চমকে উঠলো।
---তাহলে যে সেদিন ও তোমার বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বাবা বললো?
---চারু তুমিও না??সোহান কখনো আমাকে একটুও কষ্ট দেয়নি।সবসময় আমাকে এক চোখেই দেখেছে।ও সবসময় আমার বাচ্চাকে নিজের মনে করতো।

কথাগুলো চারুর কাছে সপ্নের মতো মনে হলো।ভুল তো তার নিজেরই ছিলো।কেন সে শেষবারের কথাটা শুনেনি?
---রিতু সোহান এখন কোথাই আছে সেটা বলতে পারবে?
---ওই যে সেদিনের পর থেকে আর সোহানকে দেখতে পায়নি।জানিনা ও এখন কোথাই আছে?
---সেদিন সোহান কিছু বলেছিলো?
---জন্মদিনের গিফ্ট হিসেবে ও তোমাকেই আমার কাছে নিয়ে এসেছিলো।বেশিকিছু বলেনি শুদু এ টুকু বলেছিলো যে, তোমাকেই ও বিয়ে করতে চলেছে।
---কিন্তু ও তো একটা পতিতালয়ের ট্রেইনার ছিলো?
---কিহ?সোহান কে তুমি এমন অপবাদ দিতে পারোনা?
ধীরে ধীরে চারুকে রিতু সব খুলে বলতে শুরু করলো।
এখন আর চারু সেখানে দাড়িয়ে নেই।একটা বাড়ির পাশের বাগানের দিকে হাটতে শুরু করেছে।রিতু তাকে এই ঠিকানাটাই দিয়েছে।
ঠান্ডার ভিতর এতোটা রাস্তা হাটতে হাটতে সে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে।সে জানেনা এখন সোহান তাকে মেনে নিবে কি না?তবে তাকে যে ছেলেটার কাছে যেতেই হবে।তার না বলা কথাটা যে তাকে বলতেই হবে।
বাগানে ঢুকতেই সে থমকে দাড়ালো।চারপাশে প্রচন্ড বাতাস বইছে।কিন্তু কাউকেই দেখা যাচ্ছে না।চোখ থেকে জল মুছে নিয়ে ভিতরে চলে গেলো।
কিছুদূর যাবার পর খেয়াল করলো তার কিছুদূরেই অনেকগুলো বাচ্চা খেলাধুলা করছে।

তার পাশেই রয়েছে রয়েছে একটা বসার জাইগা।চারপাশে কাউকেই দেখা যাচ্ছেনা শুধু সেই বসার জাইগাই একজনকে চাদর মুরি দিয়ে বসে থাকতে দেখছে সে।লোকটির মুখভর্তি দাড়ি আর চুপচাপ বসে থাকাটা চারুর বুকে একটা আঘাত করে বসলো।চুপিচুপি সে গিয়ে লোকটির পাশে বসে রইলো।খেয়াল করলো লোকটির পাশে একটা চিঠি পড়ে রয়েছে।আরে ছেলেটাকে বৃদ্ধ বলছি কেন?
চারু লোকটির পাশে বসে চুপিচুপি কাদতে থাকলো।কান্না দেখে পাশ থেকে লোকটি চাদরটা সড়িয়ে পকেট থেকে একটা রুমাল বেড় করে চারুর সামনে ধরলো।চারু ছেলেটার দিকে এক পলক ও ফেললো না।আড়ালে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা একদম শুকিয়ে গিয়েছে।
রুমালটা ছেলেটার হাত থেকে নিয়ে পাশে রেখে দিলো।চারুর কান্নাটা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।
চারদিকের চুপচাপ পরিবেশে এমন কান্নাটা হইতো পাশের লোকটির পছন্দ হচ্ছেনা।কিন্তু লোকটির চোখেও জল দেখা যাচ্ছে।তাহলে পাশের ছেলেটা অন্যকারো কান্না সহ্য করতে পারেনা??
শীতের কনকনে বাতাসটা চারুর শরীরে লাগছে আর থরথর করে কাপছে তার শরীর।তার কান্নাটাও জমে আসছে।
হটাৎ পাশ থেকে ছেলেটা উঠে তার গায়ের চাদরটা খুলে চারুর শরীরে জড়িয়ে দিলো।হইতো ছেলেটার এমন করে উপকার করতে ভালো লাগে।

পাশ থেকে চিঠিটা উঠিয়ে খুলে সেটা বুকে জড়িয়ে রাখলো।চোখটা বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু তার চোখটা থামছেই না।
কেন সে কাদছে আর এখানে তো কাউকেই দেখা যাচ্ছে না?তাহলে সে কি সোহানের সাথে দেখা করবে না?
কথাটা শেষ না হতেই পাশের ছেলেটা চুপচাপ এসে চারুর থেকে চাদরটা একটু সরিয়ে সেখানে জাইগা করে বসে রইলো।
কি বেপার?এই ছেলেটা চারুর কাছে এভাবে বসলো কেন?একি চারু ছেলেটার বুকে মাথা লুকালো কেন?আর চিঠিটে কি এমন লেখা ছিলো যেটাটে এতো কান্না করতে হবে??
চুপচাপ চারদিকে শুনশান বাতাস বইছে।দুজনের মুখে কোনো কথা নেই।চারু চুপিচুপি কান্না করছে।চিঠিটা তো পড়ে গেলো?তাহলে দেখি কি লেখা রয়েছে সেখানে?ওমা এখানে তো লেখা রয়েছে,,,
---এই যে তুমি কি আমার বউ হবে।
তারিখটা ঠিক ১ বছর আগের।
চিঠাটা দেখে বুঝতে বাকি রইলো না এটাই চারু সেই পাগল ছেলে।
হটাৎ চারদিকের বাতাসটা আমাকে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দিলো।হইতো আর ওদের ভালোবাসাটার অধিকার আমাকে আর দিবেনা।
তবে থাকনা এরা এদের মতো।যদি চারু কান্না করে তার ভালোবাসাটা নিজের করতে পারে?তাহলে কান্না করুক।তবে এটুকু তো বুঝতেই পেরেছি ছেলেটি সোহানি ছিলো।
হইতো এদের ভালোবাসাটা নিরবে প্রকাশ পাবে।

চারদিকে থেকে এলোমেলো সুরগুলো আর কিছু শুনতে দিলোনা।পাশ থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম,,
তোর বর্ষা চোখে ঝড়তে দেবোনা বৃষ্টি,,
তুই থাকবি
টু টু টুটু টু টুটু টু.....
বাহ আওয়াজ টা বেশ দারুন।
এই যে দুইজন পাগল আর পাগলী?তাহলে গানের সুরে সুরে তোমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সমাপ্ত

বউ হবে কী?

বউ হবে কী?

পর্ব ০৮

.
.
কথাগুলো চারুর কানে বাজতে লাগলো।সে কিভাবে বোঝাবে, সোহান আমি শুধু তোমাকেই চাই।
রাতের ঠান্ডা হাওয়াটা তার শরীরে লাগছে।শরীরটা তার বারবার কাপুনি দিয়ে উঠছে।
হাতদুটো গুটিয়ে সে রুমে গিয়ে বালিশে মাথা রাখলো।আজকে তাকে আর বসে থাকলে হবেনা?এ কদিনে সে সোহানকে যে ভালোবেসে ফেলেছে তার ভালোবাসা কথাগুলো কালকে তাকে জানাতেই হবে।
রাতটা গভির হয়ে এসেছে।চারু ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে।আর সোহান চুপটি করে সোফাই ঘুমিয়ে রয়েছে।রাতের এই সময়গুলো তার সোফাতেই কাটাতে ভালোলাগে।
-
সকাল হতেই চারু ঘুম থেকে উঠে পড়লো।চুপিচুপি ফ্রেশ হয়ে এসে চারপাশে উকি দিয়ে সে সোহানকে খুজতে লাগলো।কিন্তু তাকে যে পাওয়াই যাচ্ছে না।তাই চুপিচুপি চারু সোহানের রুমে গিয়ে উকি দিলো।
রুমের ভিতর তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই।সে চুপিচুপি রুমের ভিতর প্রবেশ করলো।রুমে যেতেই সে বেশ অবাক হলো।বাহ রুমটা তো বেশ সুন্দর।
চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে হটাৎ তার টেবিলের উপর নজর পড়লো।টেবিলের উপর রাখা আছে বিভিন্ন ধরনের বই আর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন কিছু কাগজ।চারু সেখান থেকে একটা কাগজ উঠাতে খেয়াল করলো সেটা তার নামেই রেজিস্টার আছে।কথাটা ভাবতেই খেয়াল হলো সেদিনের সেই অপারেশনের কথা।

কাগজটা খুলে সে বেশ অবাক হলো।কাগজে তো অন্যকিছু দেখাচ্ছে।তাহলে সোহান যে বললো,,তাকে একটা মেডিসিন দেওয়া হবে?
কাগজটা ভালো করে পড়ে সে বিষ্শাশ করতে পারছিলো না এই রিপোর্টটা সত্য?তাহলে সোহান আগে থেকেই জানতো সে একদম ঠিকঠাক আছে।
পাশ থেকে একটা আওয়াজ পেতেই সে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে এলো।বেলকনিতে দাড়িয়ে সে খুশিতে হাসতে লাগলো।সে যে কতোটা খুশি ছিলো?সেটা কাউকেই বোঝাতে পারছে না।
এখন তার নিজেকে বলতে ইচ্ছে করছিলো,,
---চারু তুই পারবি।আজ তোকে কথাটা বলতেই হবে।
রুমে এসে সুন্দর করে একটা চিঠি লিখলো।সে এখন বুঝতে পারছে সোহান কেন তাকে কখনো একলা ছাড়েনি।
চিঠিটা হাতে নিয়ে বাইরে যেতেই দেখে সোহান দাড়িয়ে রয়েছে।সে এক দৌড়ে গিয়ে সোহানের বুকে ঝাপিয়ে পড়লো।
---আরে আরে চারু তুমি এসব কি করছো?(চারুকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)
---আমার জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করেছে তাই ধরেছি।আপনি একদম চুপচাপ দাড়িয়ে থাকুন।
---কিন্তু এভাবে ঝাপিয়ে পড়ার কারনটাতো বলবে?
---এর আগে আপনিও আমাকে অনেক বার জড়িয়ে ধরেছিলেন।তখন আমি কিছুই বলেনি তাই এখন আপনি চুপচাপ দাড়িয়ে থাকুন।
সোহান চুপ করে দাড়িয়ে একটু রোমান্টিকভাবে চারুর কোমরে আলতো করে ছুয়ে দিলো।চারুকে দেখলেই শুধু তার এই একটাই দুষ্টুমি
মাথাই ভর করে।

চারু একটু নড়েচড়ে উঠলো।সে বুঝতে পারছে এটা সোহান ইচ্ছা করে তার সাথে মজা করছে।বেয়াদব ছেলেটা একটুও ফিলিংস বোঝেনা।সবসময় শুধু তার সাথে দুষ্টামি করে।
---এই শুনছেন?
---হ্যা বলো?
---কোমর থেকে একটু হাতটা সরানো যাবে?
---ইয়ে মানে?(তারাতারি করে হাতটা সড়িয়ে)
---একটা কথা বলার আছে?
---কথা বলবা নাকি কিছু করবে?যেরকম জড়িয়ে রেখেছো, তাতে আমারতো কিছু শুনতে ইচ্ছে করছে না।একটু ঘুমানোর শখ জাগছে।
চারু সোহানকে এক ধাক্কাই সড়িয়ে দিয়ে লজ্জাই মুখটা লুকিয়ে নিলো।
---একটু একটু ফিলিংস হচ্ছে।যাইহোক চারু তুমি কিছু একটা বলতে চাইছিলে?
---হ্যা।আচ্ছা আমি যে আপনাকে ছেড়ে যাচ্ছি।এতে আপনার কষ্ট হবেনা?(মুখটা নিচু করে)
---চারু মুখ থেকে কখনো এমন কথা বের করবা না।তুমি কখনো আমার থেকে যাবেই না।
---কেন?
---আমিতো তোমার সাথেই সবসময় থাকবো।
---ভাইয়া আপনাকে একটা কথা বলার আছে?
---হ্যা বলো।
চারু পিছন থেকে যেই চিঠিটা বের করতে যাবে?ঠিক তখনি সোহানের ফোন বেজে উঠলো।সোহান ফোন হাতে নিয়ে খেয়াল করলো বাসা থেকে বাবা ফোন করেছে।চারু চোখটা বন্ধ করে চিঠিটা সোহানের সামনে রাখতেই সে ফোনটা কানে নিয়ে পিছন ফিরে একটা দুরে চলে গেলো।

অনেক্ষন হতে চারু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে সোহান তার পাশে নেই।খেয়াল করলো একটু দূরে সোহান কার সাথে যেন কথা বলছে।
চারুর মনটা ভিষন খারাপ হয়ে গেলো।চিঠিটা তার আর দেওয়া হবেনা দেখে চিঠিটা লুকিয়ে নিলো।
বেশ অভিমানের দৃষ্টিতে সে সোহানের দিকে তাকিয়ে রইলো।কিছুক্ষন পর সোহান কথা শেষ করে খেয়াল করলো চারু তার দিকে অন্যরকম ভাবে তাকিয়ে রয়েছে।চারুর পাশে এসে,,
---কিছু মনে করোনা।বাসা থেকে বাবা ফোন করেছিলো।
---কি জন্য?
---সবসময় বাসার বাইরে থাকি।সেজন্য বাবা আমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে চাইছে।(মুচকি হেসে)
---বাহ তাহলে তো আপনাকে শুভেচ্ছা জানাতেই হচ্ছে।
---হুম।চারু তুমি কিছু একটা বলতে চেয়েছিলে?
---কই নাতো।
---মিথ্যা বলবে না?
---যেটা বলতে এসেছিলাম সেটা এখন মনে নেই।পরে মনে পড়লে তখন জানাবো।(মুখ চাপা দিয়ে)
---চারু তুমিও না?একদম বোকা একটা মেয়ে।
---হ্যা পাগল ছেলের বোকা পাগলি।(আসতে আসতে)
---পাগল বললে মনে হলো?
---আরে বললাম যে, খাবার সময় হয়ে গিয়েছে।চলুন আপনার খাবারটা বেড়ে দিতে হবেতো।
সোহান চারুর কথাই বোকা হয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।
চারু চুপিচুপি হাসছে।ছেলেটা বুদ্ধিমান হলেও একসের পাগল।একটা কথাও একটু ভালো করে শুনেনা।

চারু মনে মনে ভাবছে,,সোহানকে তার বাবা বিয়ের চাপ দিচ্ছে।তাহলে সোহান অবশ্যই একটু চাপে থাকবে।এই সুযোগেই আমি সোহানকে আমার করে নিবো।যেভাবেই হোক সোহানকে আমার মনের কথা জানাতেই হবে।কারন আমি জানি,,ছেলেটা মেয়েদের থেকেও লজ্জা বেশী পায়।তাই সে বুড়া হয়ে গেলেও আমাকে তার ভালোবাসার কথাটা বলবে না।
-
-
অনেক্ষন ধরে হোটেলে একা একা বসে রয়েছে।সেই যে কখন সোহান তাকে এখানে বসিয়ে রেখে গিয়েছে।চারপাশের সবাই তারদিকে তাকাচ্ছে।তার খুব ভয় করছে।এখানে সোহান তাকে এনেছে কারো সাথে দেখা করার জন্য।
পানির বোতল হাতে নিতেই খেয়াল করলো সোহান তার পাশে বসলো।
---ওই আপনি তো বেশ অদ্ভুত?আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গিয়েছিলেন?
---চারু আমি দুঃখিত।কিন্তু একটা কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম।(চারদিকে তাকিয়ে)
---এভাবে হবে না?মাফ চান।
---ঠিক আ আ আ....
সোহানের কথা থেমে যেতেই চারু অবাক হয়ে সোহানের চোখের দৃষ্টিটা লক্ষ্য করলো।বাইরের দিকে তাকাতেই খেয়াল হলো একটা ছোট্ট ৪ বছরের বাচ্চা তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে।বাচ্চাটা এগিয়ে আসতেই সোহান দৌড়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিলো।সোহানে এর কোলে বাচ্চা দেখে চারু অবাক হয়ে গেলো।

সোহান চারুর পাশে এসে বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে বসলো।সোহানের মুখে ফুটে উঠেছে ভালোবাসার হাসি।যেটা চারুকে চিন্তার অঘোরে ফেলে দিলো।হটাৎ পাশ থেকে শুনছো...কথাটা শুনে চারু মুখ তুলে তাকাতেই দেখে একটা যুবতী মেয়ে।তবে মেয়েটিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি বিবাহিত।
চারুর আর বুঝতে বাকি রইলো না এদের কাহীনিটা।নিজের অজান্তেই তার চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে এলো।সোহান তার সাথে প্রতারনা করেছে।সে তাকে মিথ্যা বলেছে।নিজের চোখের জলটা লুকিয়ে নিলো।
---চারু তোমাকে ওদের জন্যই বসিয়ে রেখেছিলাম।এই যে এটি হলো আমার ছোট্ট খোকা আর ও হলো রিতু।
রিতু হাতটা বাড়াতেই চারুর বুকটা ধক করে উঠলো।নিজের ভালোবাসাটা অন্যর কাছে এটা ভাবতেই হাতদুটো কাপতে লাগলো।পরিচিত হওয়ার পর খেয়াল করলো সোহান শুধু রিতুর সাথেই কথা বলে যাচ্ছে।একটা আহাকার তার ভিতর কাজ করতে শুরু করলো।কান্নাটা আর তার পক্ষে চেপে রাখা সম্ভব হচ্ছিলো না।সোহানকে একটু ওয়াশরুমে যাবার কথা বলে হোটেল থেকে বেড়িয়ে এলো।

চুপ করে একটা ফাকা যাইগা দিয়ে সে হাটছে।টপটপ করে তার চোখ থেকে জল পড়ছে।নিজেকে তার খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো।গরীব বলে সোহান তার সাথে এতোটা নোংরামি করতে পারলো?একটা মেয়েকে বিয়ে করে আরেকটা মেয়ের দিকে লালসার হাত বাড়িয়ে দিলো?
.
রাস্তার লোকজন হইতো তাকে পাগল ভাবছে।কিন্তু চারু ঠিক করে নিয়েছে।আর সে এখানে থাকবে না।একটা প্রতারকের সাথে সে কিছুতেই থাকতে পারবে না।
কান্না করতে করতে সে নিজের বাড়িতে ফিরে যাবার জন্য রওনা দিতে আরম্ভ করলো।
.
চলবে,,

বউ হবে কী?

বউ হবে কী?
পর্ব ০৭

.
ওযুখানা থেকে এসে ফ্লোরে জাইনামাজ টা পেড়ে নিলো।বোরখাটা পড়ে আয়নার সামনে থেকে নামাজের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো।তাকে আজকে এই ছেলেটাকে পাবার জন্য খোদার কাছে মিনতি করতে হবে।
এতো রাতে আগে কখনো উঠার অভ্যাস নেই তাই নামাজ শেষ করে সে বিছানাই গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
-
সকাল হতেই হটাৎ চারুর চোখে রোদ লাগতেই তার চোখদুটো খুলে গেলো।তাকাতেই দেখে সোহান তার কাছে হাজির।
---এখনো ঘুমিয়ে আছো?ঘড়িতে কতো বাজে সেটা দেখেছো?(সোহান)
---আপনি একটু সাড়া দিলেই উঠে যেতাম।তো বলুন এখন আমাকে কি করতে হবে?
---আজকে তোমাকে পতিতালয় ভ্রমন করতে নিয়ে যাবো।
---কি?সত্যি আমাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে?
---হ্যা তুমি ঘুম থেকে উঠে দেখ একটা কাপড় রাখা আছে।সেটা পড়ে বাইরে চলে এসো।
কথাটা বলে সোহান রুম থেকে বের হয়ে গেলো।চারুর মন খুশিতে ভরে গেলো।তার ইচ্ছাটা আজকে পূরন হতে যাচ্ছে।টেবিলের উপর তাকিয়ে দেখে তার জন্য একটা পোশাক রাখা আছে।প্যাকেট থেকে পোশাক বের করে বুঝতেই পারছে না এটা কিভাবে পরিধান করে?
পাশে খেয়াল করে দেখলো তার জন্য ও সোহান ব্যবস্থা করে রেখেছে।পোশাকটা পড়ে আয়নার সামনে যেতে সে নিজের মুখ নিজেই ঢেকে নিলো।

এটা কি?তার শরীরের প্রায় অংশই তো দেখা যাচ্ছে।নিজেকে তার খুব খারাপ লাগছিলো।কিন্তু সোহান পড়তে বলেছে বিধাই সে সেটাই পড়ে বাইরে বের হয়ে এলো।চুপিচুপি চারু গাড়ির ভিতরে বসে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।সোহান চারুর এমন কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসি দিচ্ছে।
সোহান জানে চারু একবার সেখানে যাবার পর আর ভুলেও এইরকম পরিকল্পনা করবে না।
তবে চারুকে দেখতে বেশ হয়েছে।কিন্তু চারুর দিকে তাকাতে পারছে না।চুপচাপ হাসিটা থামিয়ে রেখে গাড়িটা নিয়ে রওনা দিলো।
-
পতিতালয়ের গেটে সোহান গাড়িটা থামাতেই চারপাশের ছেলেপেলে গুলো কিছু একটা আচ করতে পেরেই চুপচাপ এক কোনাই গিয়ে দাড়িয়ে রইলো।গাড়ি থেকে সোহান নামতেই খেয়াল করলো চারপাশটা একদম ফাকা।সে পিছনে তাকাতেই দেখে তার পিছনে ১৫ টা গাড়ি দাড়ানো।সোহান একটা হাসি দিয়ে চুপচাপ ভিতরে চলে গেলো।
চারু গাড়ি থেকে নামছে আর চারপাশটা বারবার দেখছে।মনে মনে বলতে লাগলো,,
---ছি কি বিচ্ছিরি পোশাক।ওড়নাটাও নেই।কোমর আর হাটু এভাবে বের হয়ে থাকলে লোকজন তাকে দেখে কি ভাববে?
গেটের ভিতরে যেতেই চারুর চোখদুটো বড় হয়ে গেলো।কি সব হচ্ছে এখানে?যে যেখানে পারছে সেখানে কিসব আজেবাজে কাজ করছে।পাশের রুম থেকে আওয়াজ আসতেই চারু এক চিৎকার দিয়ে দৌড়ে দুরে চলে

এলো।চারদিকের মেয়েদের গায়ে তার থেকেও বিচ্ছিরি পোশাক।কেউ কেউ আবার নিজেই ছেলেদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
হটাৎ তার এক পাশে নজর যেতেই কিছুটা এগিয়ে গিয়ে রুমে একটু উকি দিতেই এক ঝটকায় মাটিতে পড়ে গেলো।এখানে কি করা হচ্ছে মেয়েদের সাথে।
চারুর পাশের মেয়েটাকে হটাৎ করে কয়েকটা ছেলে এসে উচু করে নিয়ে চলে গেলো।মেয়েটা অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে বাচাতে পারলো না।তার মনে একটা প্রশ্ন জাগলো?
তার পাশ থেকে মেয়েটাকে নিয়ে গেলো।কিন্তু তাকে কেন কেউ কিছু বললো কেন?কথাটা ভাবতেই হটাৎ তার বুকের দিকে খেয়াল করতেই দেখে একটা কার্ড লাগানো।
চারু একটু ভালো করে লক্ষ করে দেখে সেখানে একটা পুলিশ লাইসেন্স কার্ড লাগানো।
চারদিকে এমন অবস্থা দেখে চারপাশটা তার কাছে আধারের মতো লাগছিলো।পাশের একটা গেট থেকে দেখে একটা উলঙ্গ মেয়েকে কয়েকজন ধরে আবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।চারুর বুঝতে বাকি রইলো না, মেয়েটাকে এখানে পাচার করা হয়েছে।
-
এক দৌড়ে চারু বাইরে বেড়িয়ে গাড়িতে উঠে পড়লো।গাড়িটা আর সেখানে এক মুহুর্ত দাড়ালো না।সোজা বাসার সামনে থেমে গেলো।
গাড়ি থেকে চারু নেমে দৌড়ে রুমে চলে গেলো।সোহান বুঝতে পেরেছে চারু সবটুকুই বুঝে নিয়েছে।সে জানতো চারুকে পুরো বোঝানোর দরকার নেই।

সেজন্য চারুকে শুধু পতিতালয়ের কেনাবেচার জাইগাটাই দেখিয়েছে।আসল ভোগের জাইগাটা তাকে দেখাই নি।
.
রাতে দুজনেই ছাদে বসে রয়েছে।পাশাপাশি বসে দুজনেই কফি হাতে নিয়ে তাদের সামনে থাকা চাদটা দেখছে।পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,,
---ভাইয়া আজকালেও মেয়েরা এতো নির্যাতিত?
---এটাই সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা।যেটার বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়না।
---ভাইয়া একটা কথা বলবো?
---হ্যা বলো?
---আপনি এই পেশাই কত দিন আছেন?
---প্রায় ১০ বছর।
---আপনি তো অনেক মেয়েকে সেখানে পাঠান।কখনো কারো প্রতি আপনার আপনার মায়া লাগেনি?

কথাটা শুনে সোহান কিছুক্ষন নিরব রইলো।
---একটা মেয়ে যদি তার নিজের জীবন নিজে থেকেই বিপদের দিকে ঠেলে দেই।তখন আমার কিছু করার থাকেনা।যদি কেউ কখনো আমাকে বলতো,ভাইয়া আমি এসব পথে যাবোনা।তাহলে তাকে তক্ষুনি ছেড়ে দিতাম।কিন্তু জানিনা এসব মেয়েরা কখনো সে পথ থেকে আর ফিরে আসতে চাইনা।
---ভাইয়া এটার জন্য কি শুধু আমাদেরকেই দায়ী করলে ঠিক হবে?
---চারু তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো?
---হ্যা করেন।
---যখন তুমি আমার দেওয়া পোশাক পড়ে বের হয়েছিলে।তখন লোকজনের তোমার প্রতি কেমন আকর্ষন হয়েছিলো?
---আমি যখন চারপাশটা দেখছিলাম।সবাই আমাকে বারবার দেখছিলো।
---মেয়েদের এই একটাই সমস্যা যেটা তারা তাদের পোশাকের মধ্যে প্রচার করে বেড়াই।অনেকে বলে তাহলে শিশুরা কেন নির্যাতিত হয়?
আসলে এই কথাটার কোনো ভিত্তিই নেই।কারন খারাপ কাজ মানে খারাপ।যেটা তুমি ওদেরকে দেখাচ্ছো সেটা তারা তোমার থেকে নিতে না পেরে শিশুদের উপর প্রভাব ফেলছে।
---সবাই তাদের নিয়তির শিকার।(একটা ঘন নিষ্শাষ নিয়ে চারু)
---তো আজকের কাহিনীর পর তোমার ডিশিসন কি হলো?
---সেটা এখনো ভাবিনি।আচ্ছা আমাকে আর কতোদিন থাকতে হবে এখানে?
কথাটা শুনে সোহান কিছুটা গম্ভির হয়ে গেলো।তার ভিতর কি চলছে সেটা সে নিজেও বুজতে পারছে না।

মেয়েটাকে সে তার কথাটা বোঝাতে পারছে না।সোহান চারুর পাশে গিয়ে চারুর হাতটা ধরে,,
---চারু আকাশের ওই চাদটা দেখছো?
---জি।(কিছুটা ভিত আর চমকে গিয়ে)
---এই চাদকেই আমরা রাতের সবচেয়ে সোন্দয্য ভাবি।কিন্তু এই চাদের সুন্দর প্রতিভাটা কোথা থেকে আসে?সেটা আসে সুর্য আছে সেটার জন্য।আর ঠিক তেমনি একটা মানুষের জন্য দরকার আরেকটা হাত।যেটা তাকে বাচতে শেখাবে আর তার হাতদুটো সবসময় ধরে রাখবে।
কথাটাগুলো চারুর ভিতরে শিহরিত হতে শুরু করলো।চারুর চোখে চোখ রেখে দাড়িয়ে পড়লো সোহান।সে চারুর চোখে কিছু একটা লক্ষ তাকালো।হইতো আজ দুজনেরই কিছু একটা ফিল হচ্ছে।
চারুর হাতদুটো উচু করে,,
---এই হাতদুটো দেখছো ?এটা তুমি তোমার ইচ্ছাতে সবদিকেই নিতে পারবে।ঠিক তেমনি সেখানে যাওয়াটা তোমার উপর নির্ভর করবে।শুধু একটু বুদ্ধি দিয়ে ভেবে দেখো।
কথাটা বলেই পাশ থেকে সোহান হেটে হেটে চলে গেলো।
.
চলবে,,

বউ হবে কী?

বউ হবে কী?
পর্ব ০৬

রাতের খাবার খেতে বসে সোহান আর কিছু বলতে পারলো না।রান্নাটার কোন তুলনাই হইনা।এমন একটা মেয়ে যদি তার সবসময়ের রাধুনি হয়ে থাকতো।তাহলে কতোই না ভালো হতো।খাবার গুলো খেয়ে দুজনেই ঘুমানোর জন্য নিজেদের রুমে চলে গেলো।রাতটা এভাবেই দুজনেই কেটে যেতে লাগলো।
-
-দেখতে দেখতে তিন দিন পার হয়ে গেলো।রাত ঠিক 2 টা বাজে।হটাৎ চারুর রুমের দরজাই কে যেন ঠকঠক করতে লাগলো।এতো রাতে কে তার দরজার সামনে এসে তাকে ডাকবে।চারুর মুহুর্তেই গলাটা শুকিয়ে গেলো।সন্ধাই সোহান বলেছিলো,,তাকে নাকি সকালে কিছু কাজ করতে হবে।তাহলে কি রাত না হতেই কেউ চলে এসেছে?
কথাগুলো ভাবছে আর চুপিচুপি দরজার দিকে এগোচ্ছে।খুলবে কী খুলবে না?এসব ভাবতে ভাবতেই দরজাটা খুলে ফেললো।
---ভাইয়া আপনি এতো রাতে?
---চারু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও?
---এতো রাতে আবার কি মহা কাজ পড়লো যে, এই শীতে উঠতে হবে?
কথাগুলো বলতেই রুমের বাল্বটা জ্বালিয়ে দিলো চারু।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে তার কাধ থেকে নেমে পড়েছে।রাতের এমন দৃশ্য দেখে সোহান কি করবে বুঝতে পারছে না।ঠোটগুলো এত্ত গোলাপি যে লিপিস্টিকের তার কোনো প্রয়োজন এই পড়েনা।শরিরে একটা রেশমি কালারের পোশাক।সব মিলিয়ে তার কেমধ যেন

একটা অনুভূতি তৈরি হলো।হটাৎ চারুর ডাকে সে বাস্তবে ফিরে এলো,,
---এই যে, ভাইয়া এমন ভাবে চুপ হয়ে আছেন কেন?
---তাড়াতাড়ি সবকিছু খুলে ফেলো?
---কিহ?(চোখ বড় বড় করে)
---সরি সরি বলছি যে, তাড়াতাড়ি পোশাক পাল্টে নাও(নিজের মুখ চেপে ধরে)
---ভাইয়া আপনি মাঝে মাঝে এমন ভাবে কথাগুলো বলেন।মনে হয় আপনি যেন আগে থেকেই সেগুলো মুখস্ত করে আসেনা।কিন্তু.....
---কিন্তু কি?
---এই ঠান্ডাই এমন কি কাজ পড়লো?
---যাও তাড়াতাড়ি ওযু করে আসো।
---ভাইয়া বুঝিনা নষ্ট হতে এসবের কি দরকার?
---বেশি কথা নয়।তোমাকে রাত জাগতে শিখতে হবে তাই তোমার জন্য এটি খুব দরকার।
---ঠিক আছে কিন্তু আমাকে তো খারাপ কিছুর ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে না।
---পতিতালয়ে বেশীরভাগ দাড়িওয়ালাই যাই।যখন তোমাকে তারা প্রশ্ন করবে তখন যাতে তুমি সহজেই উত্তর দিতে পারো সেজন্য এই কাজটা তোমাকে করতে হবে।
---ও ও।এইজন্য ভাবি হুজুরটা এতো বাটপার হয় কেন?
---যখন বুঝতে পেরেছো তখন আর দাড়িয়ে থাকার কোনো দরকার নেই।
---তাহলে ওই যে লোকজন বলে, জামাকাপড় আর কতকিছু খুলে ফেলে।এসব বিষয়ে কখন শিখাবেন?
এবারের কথাটা শুনে সোহান কিছুক্ষন নিরবতা পাল৭ করতে থাকলো।সে এই মেয়েটাকে কিভাবে বোঝাবে যে,,
চারু তুমি এখনো বাচ্চা।

তোমাকে দিয়ে এসব একদম হবেনা।
---চারু যদি তোমাকে ক্লাস ফাইবে পড়ার সময় দশম শ্রেনির প্রশ্ন দেওয়া হয় তাহলে তুমি কি করবে?
---আমিতো তখন সেটা পারবো না।কারন আমার পড়াশোনা তখনো অনেক বাকি।
---ঠিক তেমনি তোমাকে যদি একবারে শেষ প্রান্তের ট্রেনিং দেওয়া হয় তাহলে তুমি সেটা নিতে পারবে না।
কথাটা শোনাই চারু ভীষন লজ্জা পেলো।সে নিজের মাথাই আঘাত করে নিজেকে বলতে লাগলো,,
---চারু তুই একটা গাধা।তুই কেন নিজেই নিজেকে ছোট করছিছ।
সোহান কথাগুলো বলেই চলে যাবার জন্য অগ্রসর হতেই,.
---ভাইয়া নামাজটা না হয় পড়ে নিবো।তবে কালকের কাজটা যদি আজকেই একটু দেখিয়ে দিতেন?
কি মেয়ে এটা?এতো উতোলা কেন হয় মেয়েটা?সোহান ইচ্ছা করেই আবারো চারুর কাছে ফিরে গিয়ে,,
---ঠিক আছে তবে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকবে।আর কোনো কথা বলবে না কেমন?
---ঠিক আছে।(মাথা নিচু করে)
-
সোহান এবার চারুর কিছুটা কাছে চলে আসলো।এতো রাতে চারু এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা ভড়কে গেলো।চারু সরে যাবার আগেই নিমিষেই চারুর গোলাপি ঠোটদুটো আলতো করে চেপে ধরলো।চারু সাথে সাথে সোহানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতেই সোহান চারুকে পিছন থেকে আবারো আটকে ধরলো,,
---ছি ছি ভাইয়া এটা কি করছেন?প্লিজ আমাকে কিছু করবেন না।

---একদম চুপ করে থাকবে।আমি যেটা করবো সেটা একদম মনোযোগ দিয়ে শিখবে।
চারু হটাৎ করে জোরাজুরি বন্ধ করে ফেললো।পিছন ফিরে সে সোহানে চোখে চোখ রাখলো।দুজনের মাঝেই কেমন যেন একটা ভালোবাসা কাজ করছিলো।চারু সোহানের ভিতর অতলেই হারিয়ে যেতে থাকলো।তার চোখেমুখে লজ্জার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে।বুকের ভিতরটা কেমন যেন ধরফর করছে।সোহান তার কাছে যেতেই এই শীতে তার কেমন যেন একটা শিহরন জাগলো।সোহান যখন তার কাধে হাত দুটো রাখলো তখন সে বুঝতে পারছিলো।কেন সোহান তাকে সবকিছু ধীরে ধীরে শিখাচ্ছিলো।চোখটা তার হটাৎ করেই বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।কিছুক্ষন পর সে সোহানের নিষ্শাশটা তার নাকের কাছে অনুভব করলো।আলতো করে তার ঠোটটা সোহান চেপে ধরতেই তার ভিতর একটা জোড়ালো নিষ্শাশ বয়ে গেলো।তার মনে হলো সে এর আগে কখনো এমন অনূভুতি টের পাইনি।ঠান্ডা ঠোটের স্পর্শটা তার কথাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।সে বুঝতে পেরেছে এটা কোনো শিখানোর ট্রেনিং না।এটা তার ভালোবাসার একটা অংশ।
কিছুক্ষন পর চারুকে সোহান নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো।চারুর ঠোঠগুলো থরথর করে কাপছিলো।সে বুঝতে পেরেছে জিবনে প্রথম কোনো স্পর্শ কতোটা ভুলিয়ে দিতে পারে সবাইকে।চোখদুটো বন্ধ করে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো।হটাৎ তার কানের পাশে কে যেন বললো,,

---চারু এটা কোনো ট্রেনিং ছিলোনা।এটা ছিলো আমাদের ভালোবাসার একটা মুহুর্ত।
কথাগুলো শোনামাত্র চারুর ঠোঠগুলোতে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।কিন্তু কথাগুলো একটু ভালোভাবে বোঝার পর চারু চোখটা বড় বড় করে চারদিকে তাকিয়ে সোহানকে খুজতে লাগলো।
কিহ তার সাথে চালাকি?ট্রেনিং এর নাম করে তাকে ব্যবহার করা?কিন্তু চারু চারপাশে কাউকে দেখতে পেলোনা।মনে মনে বলতে লাগলো,,
---কিপটে বদমাইশ ছেলে কোথাকার।যখন এতো ভালোবাসার শখ?তখন আমাকে বললেই পারতি।
পরক্ষনেই সে আবারো হেসে উঠলো।যেভাবেই হোক না কেন?প্রকাশ্যে ভালোবাসার চেয়ে চুপিচুপি প্রেম বিনিময়টাই ভালো।আর যাইহোক ছেলেটা খারাপ হলেও বেশ রোমান্টিক।হইতো এজন্য ছেলেটা এতো ফেমাস।তবে একটু পাগল টাইপের।তবে সেটা কোনো সমস্যা না।পাগল ছেলেরাই একটু বেশি রোমান্টিক হয়।তারাই শুধু ভালোবাসাটা পাগলামির মাঝে নিজের করে নেই।
হাসতে হাসতে সে ওযুখানাই বসে পড়লো।আর যাইহোক না কেন?সে এতটুকু বুঝতে পেরেছে যে, সোহান তাকে অনেকটাই ভালোবেসে ফেলেছে।আর সে নিজেই তো সেই ছেলেটাকেই ভালোবাসে।
-
ওযুখানা থেকে এসে ফ্লোরে জাইনামাজ পেড়ে নিলো।বোরখাটা পড়ে আয়নার সামনে থেকে জায়নামাজের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো।তাকে আজকে এই ছেলেটাকে পাবার জন্য এই খোদার কাছে

মিনতি করতে হবে।
.
চলবে,,

বউ হবে কী?

বউ হবে কী?
পর্ব ০৫

---আচ্ছা ভাইয়া কল গার্লরা তো প্রতিদিন কতজনের সাথে রাত কাটাই।তাহলে ওদের কেন বাচ্চা হয়না?

চারুর এইকথাটা শুনে সোহানের মাথাটা বনবন করে উঠলো।চারুর দিকে সে হাবলার মতো তাকিয়ে রইলো।এখন সে চারুকে কি জবাব দিবে?এই মেয়েকে কে বোঝাবে বাবা এসব ভাবতে নেই,,
---চারু আসলে ওদেরকে এমন একটা মেডিসিন দেওয়া হয়।যেটার মাধ্যমে ওদের বাচ্চা হবার কোনো সম্ভবনা থাকে না।
---ওহ এই ব্যাপার?তাহলে আমাকে তো এমন কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি ভাইয়া?
---এজন্যই তোমাকে হসপিতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
---ও ও ও।আচ্ছা আরেকটা প্রশ্ন......
---চারু একটু চুপ থাকতে পারোনা?সেই কখন থেকে বলেই যাচ্ছো একটু রাস্তাঘাট দেখে চললে হতোনা?
সোহানের কথাই চারু চুপ হয়ে রইলো।চারু ভাবতে লাগলো,,তাহলে আজকে হসপিতালে আমাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে।উফ খারাপ হতেও দেখি অনেক ঝামেলার ব্যাপার।
ওদিকে সোহান চারু নিয়ে হসপিতালে পৌছে গিয়েছে।ডাক্তারের কেবিনে ঢুকতেই,,
---কি ব্যাপার সোহান সাহেব হটাৎ করেই চলে এলেন?
---হ্যা বন্ধু একটা জরুরি কাজে আসতে হলো।
---হটাৎ তোর এমন কি কাজ পড়লো?আর তোর সাথে মেয়েটি কে?
সোহান আর কিছু বললো না।চুপিচুপি ইশারাই ডাক্তার শাকিল কে

ইশারাই কি যেন বুঝাতেই শাকিল কিছুটা চিন্তিত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে পড়লেন।কোন কথা না বলেই সে চারুকে নিয়ে বাইরে চলে গেলো।
---চারু তোমার অপারেশনের সময় হয়ে এসেছে।যাও ঔনি তোমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাবে।
কথাটা শোনার পর চারু ভয়ে ভয়ে ডাক্তারের পিছন পিছন যেতে লাগলো।চারুর খুব ভয় হচ্ছিলো।যদি তার কিছু হয়ে যাই?কিন্তু সোহান চারুর চোখে স্পষ্ট জল দেখতে পেয়েছে।সে বুঝতে পেরেছে চারুর কষ্ট হচ্ছে।তবে চারুর থেকে তার বেশি চিন্তা হচ্ছে।রিপোর্ট না দেখা পর্যন্ত তার ভিতরের ব্যথাটা দুর হবেনা।
.
-
দু ঘন্টা পেড়িয়ে গিয়েছে।এখনো সোহান কেবিনে চুপচাপ বসে রয়েছে।এই শীতেও তার কপালে ঘাম জমে রয়েছে।একটু পর হটাৎ সে কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলো।সে আর বসে রইলো না।দাড়িয়ে সে শাকিলকে দেখেই,,
---কি রিপোর্ট আসছে চারুর?
শাকিলকে বেশ ঘর্মাক্ত দেখাচ্ছে।বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে তার সামনে ফাইলটা রেখে,,
---সোহান তুই বাবা হতে চলেছিছ।
কথাটা শোনার পরেই সোহানের মুখ থেকে কোনো কথা বেরোলো না।ফাইলটা খুলে খুজতে লাগলো।তার বিষ্ষাশ চারু একদম ঠিক আছে।হটাৎ করেই রিপোর্টটা বের করে তাকিয়ে দেখার পর গম্ভিরভাবে সে শাকিলের দিকে তাকাতেই দেখে শাকিল হাসছে,,

---তোকে দেখে আমার খুব লালসা হচ্ছে।শালা তুই বাবা হলি কেমনে?(হাসতে হাসতে)
---শাকিল তুই ও না?বল আর কি কোনো সমস্যা আছে?
---চারুর অপারেশন নেগেটিভ।সে একদম ঠিক আছে।এমন কি তার শরীরে একফোটা আচড় ও লাগেনি।
---আহ তুই আমাকে বাচালি।
---সোহান আমি যেটা ভাবছি সেটা কি ঠিক?
কথাটা বলতেই চারু রুমে ঢুকে পড়লো।চারুকে দেখামাত্র সোহান দৌড়ে গিয়ে চারুকে জড়িয়ে ধরলো।চারু কিছু ভাবার আগেই এসব ঘটতেই তার শরীর কিছুটা কেপে উঠলো।এভাবে লোকজনের ভিতর এইরকম ভাবে জড়িয়ে ধরাতে চারু লজ্জাই লাল হয়ে গেলো।সোহান আর সেখানে এক মুহূর্ত দাড়ালো না।চারুর হাতটা ধরে কেবিন থেকে বেড়িয়ে এলো।শুধু পিছনে এক পলক ফিরিয়ে শাকিলের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বের হয়ে এলো।
রাস্তাই দুজন হাটছে।কিন্তু এখনো চারুর বুক ধরফর করছে।চুপচাপ পাশাপাশি দুজন হাটছে কিন্তু কারো মুখে কোনো কথা নেই।তবে চারুর মনে একটা প্রশ্ন জাগছে,,
---আপনি আমাকে ওতো লোকের ভিতর জড়িয়ে ধরলেন কেন?(চারু)
---তুমি সঠিক ভাবে অপারেশন করতে পেরেছো।(কিছুক্ষন পর)
---তাহলে জড়িয়ে ধরবার কি প্রয়োজন?
---চারু তুমি একটু বেশী বেশি কথা বলো।শুনো এই যে তোমার আজকে অপারেশ হলো ঠিক তেমনি আজ থেকে তূমি দু একটা ছেলের সাথে রাত কাটাতে পারবে।

চারু কথাগুলো শুনে খুব একটা খুশি হলোনা।হইতো সে চাইনি এতো তাড়াতাড়ি সোহানকে ছেড়ে যেতে।কারন সোহান কাছে থাকলে তার খুব ভালো লাগে।
সে সোহানের কথাই কোনো উত্তর না দিয়ে চুপচাপ তার সাথে বাসাই ফিরে আসলো।
-
এশার পর নামাজ শেষ করে চারু রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।এভাবে সারাদিন রুমে থাকতে তার একদম ভালো লাগেনা।একটু আগে সোহান তাকে নামাজ পড়তে বলেছে।আচ্ছা তাহলে কি আমাকে প্রতি ঔয়াক্তে নামাজ আদাই করতে হবে?কথাগুলো ভাবতে চারু কোনো জবাব না পেয়ে ভাবলো একবার ভাইয়ার রুম থেকে একবার শুনে আসি।
সে চুপিচুপি সোহানের রুমের দিকে এগোতে লাগলো।খেয়াল করলো রুমটা খোলা রয়েছে।একটু উকিঝুকি দিয়ে দেখলো ভিতরে কেউ নেই।ভিতরে গিয়ে সোহানকে না পেয়ে সে রান্নাঘরে চলে গেলো।গিয়ে দেখে সোহান রান্নাঘরে বসে রয়েছে।চারু সোহানকে রান্না করতে দেখে বেশ অবাক হলো।ছেলেরাও রান্না করতে পারে?
এদিকে চারুকে রান্নাঘরে আসতে দেখে,,
---কি ব্যাপার এতো রাতে তূমি এখানে?
কথাটা শুনে চারু কিছুটা ভয় পেলো।হটাৎ করে কিছু শুনলে তার বেশ ভয় লাগে,,
---ইয়ে মানে কিছুনা এই একটু চারপাশটা দেখছি।
---ওহ।তাহলে ভিতরে আসো।
চারু ভিতরে গিয়ে চুপিচুপি সোহানের পাশে দাড়ালো।এভাবে রাতের বেলাই একটা ছেলের কাছে দাড়াতে তার কিছুটা

সংকোচ বোধ হলো।
---চারু?
---হ্যা বলুন?
---রান্না করতে পারো?
---জি।
---কি কি রান্না করতে পারো?
---আমাদের তো নিজেদের পরিশ্রম করে খাবার জোগাড় করতে হতো।তাই রান্নার জগতের সবকিছুই তৈরি করতে পারি।
---বাহ।তাহলে তোমাকে বউ বানালে ভালোই হবে।(দুষ্টু হাসি দিয়ে)
---কি বললেন?
---বলছি আমাকে একটু সাহায্য কর।আজকে ভুয়াটা ছুটিতে আছে তাই রান্নাটা করার কেউ নেই।
---তবে যে, আপনি রান্না করছেন?
---বাইরের খাবার আমার ততোটা ভালো লাগে না।তাই সবসময় এই বিষয়টা মাথাই রেখে রাধুনি হয়ে গিয়েছি।
---হ্যা সব ঠিক আছে তবে আপনি তরকারিতে কিন্তু ওইটা লবনের জাইগা চিনি ঢালছেন।
কথাটা শুনে সোহান কৌটার দিকে তাকিয়ে একটু মুখে দিতেই দেখে চারুর কথাটাই একদম সঠিক।কি করবে আর কি বা বলার আছে তার,,
---ইয়ে মানে এই তোমাকে যাচাই করছিলাম যে তুমি বুঝতে পারো নাকি?(আমতা আমতা করে)
---হ্যা হ্যা আমি আসার আগে থেকেই তো আপনার হাতে কৌটাটা দেখছি তাহলে আপনি সপ্নের ভিতর আমাকে যাচাই করছিলেন বুঝি?
ধরা খেয়ে আর কিছু বলতে পারলো সোহান।চুপিচুপি সেখান থেকে সরে পড়লো।কিন্তু রান্নার জিনিসের ড্রয়ারের সামনে বোতলের গায়ে তো লবন লেখা ছিলো।তারমানে রাধুনি তার থেকে কি একটা লুকিয়ে রাখে।

কিন্তু চারুর কাছে তো লজ্জাটা শেষ করেই ফেলেছে।চারুর দিকে তাকাতে খেয়াল করলো চারু একনো মিটিমিটি করে হাসছে।কি আর করবে,
শালার চিনি তুই আমারে করিয়া দিলি নুন
মনে মনে বলতে কথাগুলো বলতে বলতে লজ্জাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো সোহান।
.
চলবে,

বউ হবে কী

বউ হবে কী?

পর্ব ০৪

.
সোহানের সেই দৃশ্যটা একদম ভাবতে ইচ্ছে করছিলো না।যখন টাকাগুলো দিয়ে চারু তার পা দুটি ঝাপটে ধরে কাদতে থাকলো।তাহলে কি এরা গরীর বলে সবসময় এদেরকেই হেনস্তা হতে হবে?এদের কি কোনো অধিকার নেই?
দু দিন না খেয়ে মেয়েটি কিভাবে রইলো।নিজের মনকে সোহান ঘৃনা করতে লাগলো।যে মেয়েটি দু দিন ধরে অসুস্থ আর সেই প্রতির সে কিভাবে কুনজর দিতে পারলো।
রাস্তা দিয়ে হাটছে আর চারুর মায়াবী মুখটা বারবার তার চোখের সামনে আনছে।কিন্তু এভাবে তো চারুকে বোঝানো যাবে না।তাকে যেভাবেই হোক সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতেই হবে তবে আগে সেই ভুয়া ডাক্তারকে দেখতে হবে।যে সবকিছু মুলে রয়েছে।
.
রাত ১২ টা হটাৎ করেই একটা আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেলো।আওয়াজটা শুনে মনে হলো কিছু একটা ভাঙার আওয়াজ।হটাৎ একটা লোক দৌড়ে এসে পাশে থাকে ছেলেপেলেদের ভিতরে একজনের পায়ে পড়ে গেলো।পায়ে পড়তেই ছেলেটা তার কলার চেপে ধরে মারতে মারতে রুমের ভিতর নিয়ে গেলো।কিন্তু এদিকে রুমে সোহানকে পাওয়া যাচ্ছে না।তাহলে কি এতক্ষন সবকিছু সেই ঘটাচ্ছিলো।আর এই ঘর দেখে তো সেই দোকানটাই মতে হলো।হ্যা এটাই সেই ঘর আর এরা তারাই যাদের এখনো অনেক কথাবার্তা বাকি আছে।

সোহান লোকটিকে মেরে মেরে রুমের এক কোনে ফেলে দিলো।লোকটি চিৎকার করে চেচাতে লাগলো।
---বল চারুকে কেন তুই নষ্ট করছিছ?শালা তোর বাসাই মা বোন নাই?
সোহানের কথা শুনে চাচার বয়সি লোকটা অদ্ভুত ভাবে চেয়ে রইলো।মুখে তার কোন কথা নেই।এতক্ষনে লোকটি বুঝতে পারলো তাকে কেন এতো অত্যাচার করা হচ্ছিলো।
ইতিমধ্যে লোকটির একটা মেয়েকে তার সামনে আনা হলো।সোহান গিয়ে সেই মেয়ে ওড়নাটা সড়িয়ে জামার এক অংশ ছিড়ে নিলো।যেটা লোকটি বাবা হয়ে আর সহ্য করতে পারলো না।চিৎকার করে কাদতে কাদতে বললো,,
---বাবা তোমার পায়ে ধরি তুমি আমার মেয়ের সাথে এমন করোনা।আমি তোমাকে সবকিছু বলছি শুধু আমার মেয়েটাকে ছেড়ে দাও।
কথাগুলো শুনে মেয়েটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো।সোহান লোকটির বুকের উপর পা রেখে,,
---বল কেন চারুর সাথে এমন করলি?
---বাবা এজন্য আমাকে মাফ করে দাও।কিন্তু বিষ্শাষ করো আমী মেয়েটার শরীরে কোনো পাপের চিন্হ লাগাইনি।
---তাহলে?
---আমি ঘুমের ওষুধ দিতেই মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ার পর আমি মেয়েটাকে বিছানাই রেখে দিই।নিজের মেয়েকে মিথ্যা বলে ওর শরির থেকে বোরকাটা খুলে ঢেকে রাখতে বলি।আমার একটু কাজ ছিলো তাই দোকানে ফিরতে দেরী হয়েছিলো।আর যখন ফিরে আসলাম তখন দেখি মেয়েটা আর নেই।বিষ্শাষ করুন মেয়েটা

কে আমি স্পর্শ করিনি।
কথাগুলো শোনামাত্র সোহান লোকটির বুক থেকে পা টা সড়িয়ে নিয়ে পথের দিকে রওনা দিলো।সে লোকটির কথা শুনে হাসবে না কাদবে সেটা একদম ভেবে পাচ্ছে না।খুশির আকারটা তার চোখে মুখে ভাসছে।
বাসায় ফিরে এসেছে আর এখন সে চারুর রুমের সামনে দাড়িয়ে রয়েছে।হাতে খাবার প্যাকেট করা আর কাধে রয়েছে কিছু কাপড়।দরজার কড়া নাড়তেই চারু দরজা খুলে ফেললো।

চারুকে জোড়বশত সেগুলো দিয়ে সে রুমটা নিজে থেকেই আটকে দিয়ে চলে এলো।মেয়েটাকে খুব তাড়াতাড়ি দুঃখ বেদনার জগত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
.
হটাৎ রাতটা কেটে চারদিকে আযানের সুর শোনা যাচ্ছে।আর এদিকে চারুর রুমটা কে যেন খটখট করে ধাক্কা দিচ্ছে।চারু তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে রুমটা খুলতেই দেখে সোহান পান্জাবি গায়ে তার সামনে দাড়িয়ে রয়েছে,,
---ভাইয়া আপনি এইখানে?
---চারু এভাবে এতো অলস হলে চলবে নাতো।
---এখন আবার কি করতে হবে?
---তাড়াতাড়ি অযু করে এসো।নামাজ পড়তে হবে।
সোহানের কথা শুনে চারুর চোখদুটো লম্বা হয়ে গেলো।পতিতা হতে গেলে নামাজ পড়তে হয়?সে তো কখনো এইরকম কোনো কথা শুনেনি?
---ভাইয়া পতিতা হতে নামাজ পড়তে হবে কেন?
---চারু তুমি কিন্তু আমাকে ধমক দিচ্ছো।যাও গিয়ে অযু করে এসো।
---কিন্তু আমাকে তো জানতে হবে এসবের ভিতর আবার নামাজ আসলো কোথা থেকে?আমি তো দেখেছি পতিতারা খুব খারাপ হয়।
---চারু যখন তুমি ভালো কাজ করবে তখন তোমাকে কেঊ সন্দেহ করবে না।আর যারা শুধু খারাপ কাজ করে তাদের কে পুলিশে ধরে নিয়ে যায়।
সোহানের কথাটা চারু বিষ্ষাশ করে নিলো।সে তো নিজেই কতো এইরকম পুলিশ কেস দেখেছে।যাক বাবা তাহলে এখন থেকে নামাজ পড়লে আমাকে কেউ সন্দেহ করবে না।ভাইয়ার তো হেব্বি বুদ্ধি।
কিন্তু কিন্তু,,
---কি ব্যাপার তুমি এখনো দাড়িয়ে কেন চারু?
কথাটা শুনে চারু মাথা চুলকাতে চুলকাতে রুম থেকে বের হয়ে আসলো।চারু যেতেই সোহান চুপিচুপি হাসতে হাসতে সেখান থেকে চলে যেতে যেতে বলতে লাগলো,,
---পাগল একটা মেয়ে?

চারু অযুখানাই গিয়ে দেখে ফ্লাটের সবাই সেখানে উপস্থিত।সে ভাবলো হইতো এখানের সবাইকে এই নিয়ম মানতে হয়।চুপিচুপি একটা মেয়ের কাছে গিয়ে বসে,,
---আচ্ছা আপু তাহলে এসব সত্যিই মানতে হয়?
---এই মেয়ে কিসব বলছো?(মেয়েটি)
চারু বুঝতে পারলো না মেয়েটি এমন কেন বললো?
অযু সেরে সে নামাজ শেষ করে বেলকনিতে গিয়ে দাড়ালো।কখনো সে এমন সাধীনভাবে ফ্লাটে রাত কাটাইনি।বেলকনি থেকে ঠান্ডা হাওয়া লাগতেই তার চুলগুলো দুলতে শুরু করলো।

সকাল হতেই আবার চারু সোহানের সামনে হাজির।
---ভাইয়া আমাকে ডেকেছেন?
---হ্যা।নামাজ পড়েছো?
---জি।
---কুরআন পড়তে পারো?
---জি না।
---কাল থেকে নামাজ বাদেই পাশের রুমে কুরআন শিখতে যাবে।
---কি?(অবাক হয়ে)
---এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই।যদি তোমাকে পুলিশ কোনো হোটেল থেকে আটক করে তখন তুমি কুরআন পড়লে ওরা তোমাকে ছেড়ে দিবে।
--- ও এই কথা?(কিছুটা বোঝার ভান করে)
---সকালে কিছু খেয়েছো?
---না।আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা বলবো?

---হ্যা বলো?
---আচ্ছা ভাইয়া আমি একটু আগে একটা মেয়েকে এই ব্যাপারে জিগ্গেস করতেই সে আমাকে ঝাড়ি দিলো কেন?
--- কি কি কি তু তু তুমি কাকে এই কথাটা বলেছো?(অবাক হয়ে)
---এই পাশের রুমের আপুকে।
---চারু এখন থেকে আর এসব করবে না।ধরো তার কথা যদি সবাই জেনে যাই তাহলে সে লজ্জা পাবেনা?তাহলে সে কি কখনো স্বীকার যাবে নাকি?
---হ্যা ভাইয়া ঠিক বলেছেন।
---তো চারু সাহেব?এখন থেকে কিভাবে চলতে হবে?
---এখন থেকে কারো সাথে এইরকম কথা বলা যাবেনা।
---এইতো ভালো মেয়ে।এখন যাও আর গিয়ে রেডি হয়ে নাও।তোমাকে নিয়ে বেরোতে হবে।
---কোথাই যাবেন?
---তোমাকে নিয়ে একটু হসপিতালে যেতে হবে।বুঝোনা মেয়েদেরকে একটু ডাক্তার দেখানো উচিত।
চারু আর কোন কথা না বলে রুম চলে গেলো।চারুর পাগলের মতো মাথাটা দেখে সোহান আর হাসি ধরে রাখতে পারলো না।এ কেমন মেয়েরে বাবা?এতোবড় হয়েছে তবুও ভিতরে বাচ্চাদের মতো বোকাই রয়ে গিয়েছে।
হসপিতালটা খুব কাছেই তাই সোহান চারুকে নিয়ে হেটে রওনা দিলো।তাকে একটা বিষয় জানতে হবে যেটা চারুর জিবন মরনের সাথে জড়িয়ে আছে।পথে হাটার সময় চারু সোহানকে ডিস্টার্ব করা চেষ্টা করতে চাইলো কিন্তু কোনমতেই পেরে উঠছে না।তাই চারু সোহানকে বলে ফেললো,,

---ভাইয়া একটা কথা বলবো?
---হ্যা বলো?
---আচ্ছা কল গার্লরা তো প্রতিদিন কতজনের সাথে রাত কাটাই কিন্তু এদেরতো কোন বাচ্চা হয়না কেন?
কথাটা শুনে সোহান হাবলা হয়ে গেলো।এখন সে এই মেয়েকে কি জবাব দিবে?
.
চলবে,,

বউ হবে কী

বউ হবে কী

পর্ব ০৩
---ভাইয়া দেখুন ওইখানে কি করছে?
---কি করছে শুনি?
---কতোগুলো ছেলে মিলে একটা মেয়েকে ঘিরে মেয়েটাকে উত্তক্ত করছে আর মেয়েটার ওড়নাটা কেড়ে নিয়েছে।
সোহান চারুর কথা শুনে পাশে তাকাতেই দেখে মেয়েটার অবস্থা বেহাল।দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়েটা গরীব ঘরের।এখন সে চারুর সামনে কিছু করতেও পারবে না কারন চারুর কাছে সে একটা খারাপ ছেলে হিসেবে পরিচিত।কিছু করলে তার উপর চারু সন্দেহ করবে।
---এই মেয়েটা ঠিক তোমার মতোই নতুন তাই সহজে মানিয়ে নিতে পারছে না।
---তাহলে রুমে নিয়ে যাক।রাস্তাই এভাবে কষ্ট দেওয়াটা ঠিক না।
---টাকার কাছে সবাই হার মেনে নেই।এই মেয়েটাই দেখবা দু দিন পর ছেলেদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।
চারু সোহানের কথাগুলো সহজেই বিষ্শাষ করে নিলো।ওদিকে সোহান ইশারাই ছেলেগুলোকে হাত নাড়াতেই সবাই ভয়ে পালিয়ে গেলো।কিন্তু যে যত ভালো হোক না কেন?তার ভিতরেও একটা নেশা কাজ করে।সোহানের ফিলিংসটা চারুর প্রতি ধীরে ধীরে বাড়তে রইলো।আশেপাশের সবকিছু ঘুড়িয়ে এনে চারুকে তার বাসাই নিয়ে আনলো।সে তার নিজের বাসাতে থাকে না।তাই ভাড়া নেওয়া তার রুমে চলে এলো।চারু খেয়াল করলো তার ফ্লাটে অনেক মেয়েরা দাড়িৎএ আছে।চার বলতে লাগলো,

---আপনার ফ্লাটে এতো মেয়ে কেন?
---সবাই তোমার মতোই ট্রেনিং নিচ্ছে।
---ও এদেরকে দেখে আমার সেটা মনে হয় না।এরা বেশ ভদ্র ঘরের মেয়ে মনে হচ্ছে।
---হ্যা তুমি ঠিক বলেছো চারু।এরা উচু বংশের মেয়ে।এখানে এসে ওরা আমাকে টাকা দিয়ে ওদের জন্য একটা করে বেছে নিয়ে ফুর্তি করে।
চারু শুধু অবাক হয়ে সবাইকে দেখছিলো।সে খেয়াল করলো সেখানে অনেক বিবাহিতাও রয়েছে।তবে তার কাছে ফ্লাট দেখে বিষ্শাষ হচ্ছে না,,
এমন একটা বিল্ডিং এ আদান প্রদানের কাজ করে?
সোহান সোজা চারুকে নিয়ে একটু ভিতর গিয়ে বেশ সুন্দর একটা রুমে চলে গেলো।রুমটা অনেক সুন্দর জিনিসে সাজানো যেটা চারু জীবনে কখনো দেখেনি।চারুর চারদিকে এমন অবাকের মতো তাকিয়ে থাকতে দেখতে সোহানের কেমন যেন লাগছিলো।এতো মেয়েকে ভালো করেছে কিন্তু কখনো কোনো মেয়েকে খারাপ উদ্দেশ্য স্পর্শ করেনি।
.
চুপিচুপি চারুর পিছনে গিয়ে দাড়িয়ে পড়লো।পিছন থেকে চারুর কোমরটা আলতো করে দু হাত দিয়ে টেনে নিয়ে তার বুকে টেনে নিলো।হটাৎ সোহানের এমন আচরন দেখে চারু বেশ ভিত হয়ে গেলো।রুমে আনতে না আনতেই শুরু করে দিয়েছে।ইচ্ছে থাকা সত্তেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে নিজেকে মানিয়ে রাখলো।তাকে ভীত হলে চলবে না।তাকে খারাপ মেয়ে হতেই হবে।

কিন্তু সোহানের স্পর্শটা তাকে কেমন যেন শিহরিত করছিলো।হাতটা যখনি নাভির কাছে নিয়ে চারুর কোমরটা পুরোপুরি চেপে ধরে মুখটা গলার কাছে নিলো।চারু আর তাকে নিয়ন্তন করতে পারছিলো না।তার ভিতরে একটা জোড়ালো নিষ্ষাশ বইতে শুরু করলো।চোখটা নিমিশেই বন্ধ করে সোহানের পরম ছোয়াগুলো অনুভব করতে থাকলো।
সোহান নিজেকে একদম দমিয়ে রাখতে পারছিলো।ছেড়ে দিতে চাইছে কিন্তু তার হাত পা গুলো চারুকে ছাড়তেই চাইছে না।
চারুকে এক টানে সে ঘুরিয়ে তার বুকে টেনে নিলো।চুলগুলো দ্রুত ঘুরতেই সোহানের চোখমুখ ঢেকে দিলো।চারুর চোখের দিকে তাকিয়ে সে আর থাকতেই পারছিলো।এতো সুন্দর একটা চেহারা কিভাবে তৈরি হয়েছে?চারুর মুখে টোল পড়েছে।মুখটা চারুর ঠিক ঠোটের ১ ইন্চি দুরে রেখে চারুর নাকের নিচের তিলটা দেখছিলো।হাতটা মুখে লাগাতে না চাইতেও হটাৎ মুখটা শক্ত করে চেপে ধরে আলতো করে চারুর ঠোটটা চেপে ধরলো।
হটাৎ কিছু একটার টানে এক ঝটকাই সে চারুকে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দিলো।সোহান স্পস্ট টের পেয়েছে।কিস করাতে চারু ভয়ে কাপছিলো।যে মেয়ে তাকে এতোটা বিষ্ষাষ করেছে আর এখন তাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে?নিজের মাথাই হাত দিয়ে চিন্তার ভিতর পঢ়ে গেলো।কিন্তু চারু কি ভাবলো?এভাবে ধাক্কা দেওয়াতে সে কি বুঝলো?

ভাবাটা শেষ না হতেই তার মনে হলো কেউ একজন আবারো তার ঠোটটা চেপে ধরেছে।চোখটা খুলতেই পারছিলো না।তবুও চোখটা খুলে চারুর চোখের দিকে তাকালো।এমন একটা পরিস্থিতিতে সোহান নিজেই ভয় পেয়ে গেলো।সে চারুর চোখে স্পষ্ট জল দেখতে পেয়েছে।হটাৎ করে চারুর কি হয়ে গেলো?নাকি চারু তাকে সত্যিই তার দেহটা ব্যবহার করতে দিবে?
চারুর থেকে নিজেকে ছারিয়ে নিলো।চারুর চোখের জলটা তার চোখটাই জল এনে দিলো।সে রুমে আর থাকতে পারলো না।নিজেকে খুব নিচু মনে হতে লাগলো চারুর কাছে।রুম থেকে বের হওয়ার সময় না তাকিয়ে বললো,,
---তোমার ভিতর প্রচুর উত্রেজনা আছে।তবে এভাবে এতো মায়াবী ভাবে তাকানো যাবে না।আর চোখে জল আনলে কিন্তু তোমাকে ট্রেনিং এ রাখা যাবেনা।
সোহান কথাটা বলে উত্তরের আশাই দাড়িয়ে রইলো।কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে চলে যেতেই,,
---ভাইয়া একটু দাড়ান?(গলার ভারি করে)
কথাটা শোনামাত্র সোহান দাড়িয়ে গেলো।সে জানতো না এমন কি রয়েছে চারুর ভিতর।তবে চারুর কোন কথাই তার কাছে পৌছাতে সময় লাগেনা।
সে দাড়িয়ে থাকতেই চারু মুখটা নিচু করে পকেট থেকে খুচরা ৬০০ টাকা তার হাতে রেখে দিলো।টাকাটা হাতে পেয়ে সে চারুর চোখের দিকে তাকালো।চারুর চোখ থেকে ফোটা ফোটা জল বেরোচ্ছে।হটাৎ করে চারুর এমন আচরনে সে

বেশ অবাক হয়ে পড়লো।
---চারু আমাকে টাকা দিচ্ছো কেন?
--- .........??
---কি ব্যাপার কথা বলছো না যে?
চারুর কোনো জবাব না পেয়ে সে বুঝতে পারলো না চারু তাকে কি বোঝাতে চাইছে।টাকাগুলো সে একটু ভালো করে চেয়ে দেখলো।টাকাটা একটু ভিজে গিয়েছে যেটা দেখে তার বুঝতে বাকি রইলো না যে, চারু এই টাকাটা অনেক আগেই হাতে রেখেছিলো।কিন্তু টাকাগুলো কেন তাকে দেওয়া হলো??
চারুর কাধে হাত রেখে জানার চেষ্টা করলেও চারু বলছিলো না।রেগে গিয়ে সে চারুকে ধমক দিয়ে কয়েকটা ঝাকুনি দিতেই কান্নাভেজা কন্ঠে তার গলা থেকে বেরিয়ে এলো,,
--- ভাইয়া আমি আজ দু দিন কিছুই খাইনি।ম্যথা ব্যথাটাও শুরু করেছে।আমার কাছে আপনাকে দেবার মতো কিছুই নেই।এই টাকাগুলো সেদিন দু জনের থেকে টিউশনি করে পেয়েছি।এর চেয়ে আর ১ টাকাও বেশি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।আপনি যদি চান তাহলে আপনাকে আমি সব দিবো শুধু আপনি আমাকে এখানে থাকতে দিন।(ফুফিয়ে ফুফিয়ে)
.
.
এখন আর সোহান রুমে নেই।সে রাস্তাই চলে এসেছে।এই শীতেও তার গা গরমে ভিজে যাচ্ছে।তার হাত পা গুলো এখনো কাপছে।একটা মেয়ে কিভাবে এতোটা কষ্ট ভোগ করতে পারে?

সে ভাবতেও পারেনি ৬০০ টাকা দিয়ে মেয়েটি কি করতো?চোখ থেকে জলটা মুছে নিলো।তার সেই দৃশ্যটা একদম ভাবতে ইচ্ছে করছিলো না।যখন চারু টাকাগুলো দিয়ে তার পা ঝাপটে ধরে কাদতে কাদতে কথা গুলো বললো।তাহলে কি এরা,,
.
চলবে,,

বউ হবে কী

বউ হবে কী

পর্ব ০২


---ভাইয়া এতো মানুষের ভিতরে কিভাবে জামাকাপড় খুলবো?(মাথা নিচু করে)
---কিহ জামাকাপড় খুলতে যাবেন কেন?(সোহান)
---আপনি তো নিজেই বললেন তাদের সবকিছু খুলে দেখাতে হবে।
চারুর কথা শুনে সোহান কিছুক্ষন চারুর দিকে তাকিয়ে থাকার পর খুব জোরে হাসতে শুরু করলো।পাশ থেকে জলের বোতলটা তার দিকে এগিয়ে দিলো।চারু জলটুকু মুখে দিতেই,,
---চারু তোমাকে আমি ওইরকম খারাপ কিছু বলিনি।আমি জানতে চাইছি তোমার সাথে এমন কি ঘটেছে যেটার জন্য তুমি দেহ বিক্রি করবে?
চারু সোহানের কথাই খমকে দাড়ালো।হটাৎ এমন একটা প্রশ্ন শুনে তার ভিতরটা কেমন যেন একটা অস্থিরতার কাজ করছিলো।
---তেমন কিছুনা।আমার এটি পছন্দ হয়ে তাই।
---তোমার পছন্দ হলে তো হবে না।আচ্ছা এটা বলো তুমি কয়জনের সাথে রাত কাটিয়েছো?
---অনেকের সাথে(চোখ ভরা জল নিয়ে)
---কতজন তোমাকে টাকার বিনিময়ে ভোগ করেছে?
---শতশত লোক(হাতদুটো শক্ত করে চেপে রেখে)
---তোমার সাথে কি কখনো একসাথে একধিক কেউ মিলন করেছে?
এবারের কথাটা শুনে চারু আর কান্নাটা চেপে রাখতে পারলো না।চুপিচুপি কান্নাটা তার বেড়ে গেলো।ভাবতেও পারেনি তাকে এভাবে এতোটা নিচু হতে হবে।নিজের চোখদুটো মুছে নিজেকে ঠিক করে নিলো চারু।

---দেখুন আপনি আমাকে এভাবে অপমান করতে পারেন না।আমি যার সাথে থাকি না কেন তাতে আপনার কি?(ফুফিয়ে ফুফিয়ে)
---তাহলে মিথ্যা বলছেন কেন?সত্যিটা বলুন?
---আপনার কাজ আমাকে ট্রেনিং দেওয়া এর বেশী কিছু কেন জানতে চাইবেন?
---এটা আমাকে জানতেই হবে।আমি কখনো কাউকে বিনা কারনে তার পবিত্রতা নষ্ট করাতে পারিনা।
---আমি ট্রেনিং নিতে রাজি তবুও কিছু বলতে পারবো না।
সোহান হতাশ হয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।এতোকিছু বলার পরেও কেন মেয়েটি তার মিথ্যা কথাগুলো সীকার করছিলো না?এবার তাকে একটু বেশি খারাপ হতে হবে।
---চারু ধরো তোমাকে আমি কারো সাথে পাঠালাম তখন হটাৎ তার সাথে যাবার পর তোমার কিছু হয়ে গেলো তখন আমার কি হবে?
কথাটা শুনে চারু কিছু বলছে না।তাকে আর কতো অপমান সহ্য করতে হবে?এই ছেলেটা তাকে কেন এতো প্রশ্ন করছে?চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে একটা নিরব গাছের নিচে চলে গেলো।চোখটা বন্ধ করে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে রইলো।সোহান চারুর পাশে গিয়ে তার মায়াবী মুখটা দেখতে লাগলো।মেয়েটা কেন এতো মায়াবী?চুপ করে সে ওর পাশে বসে পড়লো।
---আপনি জানতে চান না আমি কেন এমন?তাহলে শুনুন ঘটনাটা,,
,
আমি চারু।এবার অনার্সে পড়াশোনা করছি।পিতাবিহিন একটা ছোট্ট পরিবারে আমার জন্ম।

মা এ হলো আমার সব।টিউশনির টাকা দিয়ে আমাদের কষ্টের সংসারটা খুব সুন্দরভাবেই কেটে যেতো।কিন্তু কথাই আছেনা গরীবের ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরাই।ঠিক তেমনি একটা অসহ্য রোগ আমাকে বাচিয়ে রাখতে চাইনা।আমার মাথাই প্রচন্ড ব্যথা করে যেটা কখনো সাড়াতে পারিনি।টাকা পয়সা নেই বলে কোনদিন হসপিতালে যেতে পারিনি।কোনরকম বাচার জন্য বাড়ির পাশের একটা দোকান থেকে 2 টাকার ব্যথার বড়ি কিনে খেতাম।কিন্তু সেই দোকানদার খুব খারাপ ছিলো।সবসময় আমাকে খারাপ নজরে দেখতো।হটাৎ
.
কথাগুলো বলতেই থেমে গেলো সে।সোহান চারুর থেমে যাওয়াতে খেয়াল করলো মেয়েটি তার বুক ভিজিয়ে দিয়েছে।হাতদুটো সে নিজেই ধরে রেখেছে।তার মনে হচ্ছিলো মেয়েটি যেন তার কাছে অভিমান করছিলো।রুমাল বের করে চারুর চোখদুটো মুছে দিয়ে আবারো তার বুকে রেখে দিলো।
---তারপর কি হয়েছিলো?
---হটাৎ একদিন সন্ধাই আমার মাথাটা প্রচন্ড ব্যথাই কাতর হয়ে যাই।অনিচ্ছা সত্তেও আমি ওই দোকানে চলে যাই।খুব ভয় করছিলো কিন্তু আমি তখন নিরুপাই ছিলাম।ধীরে ধীরে দোকানে গিয়ে দেখি দোকানটা একদম ফাকা।দোকানদার আমাকে দেখেই চোখ বড় বড় কযে তাকাচ্ছিলো কিন্তু পরক্ষনেই বললো তার কাছে নাকি ঔষুধ নেই।আমার তখন মাথাই কাজ করছিলো না।আমি তখন যেকোন ব্যথা কমানোর ওষুধ

চাইতেই সে বললো একটা ওষুধ আছে।আমি চাইতেই সে গ্লাসে মিশিয়ে দিলো।কিন্তু সেটি খাবার পর হটাৎ করেই আমি মাটিতে পড়ে বেহুশ হয়ে গেলাম।
সোহান চারুর কথাগুলো শুনার পাশাপাশি তার চুলগুলো ঠিক করে রাখছিলো।সে চারুর শরীরের কাপুনিটা টের পাচ্ছিলো।এই শীতেও চারুর শরীরের প্রচন্ড জ্বর এর আভাস পাচ্ছিলো।ফোলা ফোলা লাল চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে আবারো সে চারুর কথাই মনোযোগ দিলো।
---বেহুশ হবার পরে আমি বুঝতে পারিনি কি হয়েছিলো আমার সাথে।আমি যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম একটা ঘরে।কিন্তু পরক্ষনেই নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকে বিষ্ষাষ করতে পারছিলাম না।নিজের শরীর শুধু একটা চাদর দিয়ে ঢাকা ছিলো।তখন নিজেকে শেষ করার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।যখন নিজের ইজ্জতটুকু রাখতে পারলাম না তখন ভালো সেজে লাভ কি?
.
চারুর মুখ দিয়ে আর কিছু বেরোলো না।এদিকে শেষ কথাগুলো শুনে সোহান নিজের চোখের কোনার পানিটুকু মুছে নিলো।সে বোঝেনা কি করে মানুষ এতো খারাপ হতে পারে?একটা মেয়েকে কিভাবে ভোগের পাত্র বানিয়ে নেই।চারুর ব্যথাগুলো সে বুঝতে পেরেছে।কিছুক্ষন দুজনেই চুব করে রইলো।
চারুকে বুক থেকে সরিয়ে দাড়িয়ে পড়লো।তার মনে হলো চারুর এখন একটা মানুষের ভালোবাসা প্রয়োজন।

তবে চারুকে তার আসল পরিচয় বুঝতে দেওয়া যাবেনা।
---চারু তুমি অবশ্যই পারবে শুধু তুমি নিজের উপর বিষ্ষাশ রাখে।
---আচ্ছা ভাইয়া তাহলে কি আমাকে নিবেন?(চোখমুখ মুছতে মুছতে)
---হ্যা তুমি এখন আমার সাথে একটু ঘুরে আসবা।
---কোথাই যাবো?
---তোমাকে কিছু পরিবেশের মেয়েদের দেখাবো তারপর তোমাকে আমার বাসাই নিয়ে যাবো।
---কিন্তু.....
---কোনো কিন্তু না তবে এখানে এভাবে একলা একটা ঘুরবে ন।তাহলে বিপদ হতে পারে।এই নাও আমার হাতে হাত রাখো।
হাতটা ধরবো কি না?কথাটা ভাবতেই চারুর মনে পড়ে গেলো তাকে সবাই ছুতে পারবে তাহলে হাতটি ধরলে কি এমন হবে?কাপাকাপা হাত দুটো অনিচ্ছা সত্তেও সোহানের হাতে রেখে সামনে এগোতে শুরু করলো।হাতদুটো সোহান চেপে ধরতেই চারু কেমন যেন একটা শিহরন অনুভব করলো।সোহানের চোখদুটো তার মনে একটা আশার আলো খুজে দিয়েছে।পথে হাটছে অথচো তাদের দুজনেরই মনে হচ্ছে না তারা এভাবে একসাথে অপরিচিত হয়েও চলছে।চারুর হাতের আঙুলগুলো সোহান ইচ্ছে করেই তার আঙুরের মাঝে ঢুকিয়ে নিলো।মুচকি হাসি দিয়ে সে চারুর দিকে তাকাতেই চারু লজ্জাই মাথা নিচু করে নিলো।
দুজনেই খুশি মনে সামনে এগোতেই রইলো।সোহান একটু দুষ্টামি করে চারুর হাতগুলো বারবার একবার এদিক আবার ওদিক করছে।
কিছুক্ষন হাটার পর চারুর কথাই সোহান বাস্তবে ফিরে আসে।
---ভাইয়া দেখুন ওই খানে কি হচ্ছে?
---কি হচ্ছে?
---দেখুন মেয়েটার চারপাশে দাড়িয়ে ছেলেরা ডিস্টার্ব করছে।ওরাতো মেয়েটার ওড়নাটা.,,..
.
চলবে,,

বউ হবে কী

বউ হবে কী


পর্ব ০১
---ভাইয়া এখানে দেহ বিক্রির হোটেলটা কোথাই একটু বলে দিবেন?
কথাটা শুনে বেশ অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকালো সোহান।মেয়েটির শরীরে রয়েছে সুন্নাতি বোরখা আর মুখে হিজাব পড়াতে চেহারাটা নুরের ন্যায় চমকাচ্ছে।এমন একটা মেয়ের মুখে হটাৎ দেহ ব্যবসার কথা শুনে সোহানের একদম বিশ্ষাষ হচ্ছিলো না।খেয়াল করলো মেয়েটির চোখে জল।তারমানে মেয়েটি একটু আগে অনেক কান্নাকাটি করেছে।এত সুন্দর একটা মেয়ের চোখে মুখে ভয়ের চিন্হটা সোহানের মনটাকে মোমের মতো গলিয়ে ফেললো।সোহান জানতো মেয়েটিকে এখন শান্ত করতে হবে তারপর তাকে সবকিছু বোঝাতে হবে।
---আপনি সঠিক জাইগাতেই এসেছেন তবে সেখানে যেতে হলে আপনাকে কিছু শর্ত মানতে হবে।
---হ্যা ভাইয়া আমি শর্ত মানতে রাজি আছি।বলুন কি করতে হবে আমাকে?
---তোমার নাম কি?
---ভাইয়া আমার নাম চারু।

---শুনো চারু এখানে হটাৎ করে গেলে তোমার মিত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।জানোইতো এখানে যারা আসে তারা একটু বেশিই শক্তিশালী।তাই তোমাকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত হতে হবে।
কথাটা শোনার পর চারু নামক মেয়েটা তার পাশে বসেই কাদতে শুরু করলো।সোহান বুঝতে পেরেছে মেয়েটির শরির একদম পবিত্র।একে শুধু একটু যাচাই করে নিতে হবে।

কিন্তু একে দেখে মনে হচ্ছে,,কথার দ্বারা বোঝানো সম্বব না তাই বুদ্ধি দিয়ে বোঝাতে হবে।চারুর পাশে গিয়ে সোহান চারুকে বললো,,
---যারা নতুন কাজ করতে চাই তারাও সেখানে যেতে পারে শুধু তাকে একটা আবেদন পত্র জমা দিতে হয়।
কথাটা শুনে মুখ তুলে চারু সোহানের চোখের দিকে তাকালো,,
---ভাইয়া সেই আবেদন পত্র কোথাই পাওয়া যাবে?
---আমিও তোমাকে সেই পত্র দিতে পারবো কারন সেখানে আমার নিয়মিত যাওয়া আসা আছে।
---ভাইয়া সেই পত্র আমাকে এনে দিতে পারবেন?তাহলে আপনি যা চান আমি তাই আপনাকে দিবো।
---হ্যা তবে প্রথমত আমার সাথে তোমাকে কয়েকদিন থাকতে হবে।কারন সেই ট্রেনিং আমি নিজেই দিই
কথাটা শুনে চারু বেশ ঘাবড়ে গেলো।এই ছেলে ট্রেনিং দেই তাহলে ইনিতো বেশ খারাপ বদজাত ছেলে।কিন্তু তার যেভাবেই হোক না কেন তাকে পতিতালয়ে যেতেই হবে।
---সমস্যা নাই আমি আপনার সাথে রাত কাটাতে রাজি আছি শুধু আপনি আমার আবেদন পত্রটা এনে দিন।
---ওই যে পাশে একটা হোটেল দেখা যাচ্ছে।সেখান গিয়ে আমার কথা বলুন তাহলে আপনাকে ওরা নিয়ে যাবে।কথা বলে সোহান চারুকে সেখানে যাবার জন্য পাঠিয়ে দিলো।যাবার সময় চারু বললো,,
---ভাইয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ তবে আপনার নামটা বলেন নি এখনো?
---আমার নাম সোহান আর আমিই আপনার পতিতালয়ে পাঠানোর দায়িত্বে আছি।
কথাটা শেষ করে চারুকে হোটেলে পাঠিয়ে দিলো সোহান।পাশের দোকান থেকে একটা বিয়ার নিয়ে বসে হাসতে লাগলো।তার জিবনে সে এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেহ বিক্রির জন্য এতো উত্রেজিত দেখছে।চারুকে দেখে সে বুঝতে পেরেছে চারু এসব নিজ থেকে করছে না।নিশ্চয় এর পিছনে কোনো কারন রয়েছে।এতসুন্দর একটা মেয়ে সইচ্ছাই তার দেহ বিক্রি করছে অথচো সে নিজেই জানেনা।পতিতালয় থেকে মেয়েরা সবসময় পালানোর চেষ্টা করে।
চারুকে প্রথম দেখাতেই তার ভালো লেগেছে।এখন তার একটাই উদ্দেশ্য সেটি হলো চারুর মুখ থেকে পুরো ঘটনাটা শোনা।
এদিকে চারু হোটেলে ঢুকছে আর ভাবছে পরপুরুষে সাথে এটাই তার প্রথম মিলন শুরু।পরক্ষনেই ভাবলো না না সে তো আগেই একজনের সাথে রাত কাটিয়েছে।হোটেলের লোকজন দেখে সে ভয় পেতে থাকলো।সোহান নামের ছেলেটি তার সাথে কিভাবে কি করবে এটা ভাবতেই চারুর বুক ধরফর করে কাপছে।সে শুনেছে তাদের শরিরের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হয়।তাহলে সোহান কি তাকে টাকা দিয়ে কিনে নিবে?
ম্যানেজার এসে তাকে এক কোনাই বসতে বললো।চারু ভাবলো হইতো এই হোটেলের ছেলেদের দিয়ে তার ট্রেনিং দেওয়া হবে।
.
চলুন এদের বিষয়ে কিছু জেনে নেওয়া যাক.,

সোহান হলো এই শহরের সবচেয়ে ধনবান আর ক্ষমতাশালি পরিবারের ছেলে।দেখতে যেমন সুন্দর ঠিক হাতের কাজগুলোও তেমনি।শহর থেকে কিভাবে অন্যায় কাজ বন্ধ করা যাই এটাই তার সবসময়ের ভাবনা।তবে সে বাজে ছেলেপেলের কাছে মাস্তান আর ভালোদের কাছে তার মতো ভালো পোলা একটাও খুজে পাওয়া যাবে না।
দোকান থেকে সোহান কয়েকটা কলা আর বিস্কুট কিনে পাশের ফুটপাতে গিয়ে একটা অসহায়ের পাশে খাবারগুলো রেখে হোটেলের দিকে রওনা দিলো।তার চোখে কারো কষ্ট একদম সহ্য হয়না।

ওদিকে হোটেলের এক কোনে চারু চুপচাপ বসে রয়েছে।তার চারপাশে কয়েকটা বাজে ছেলেরা তার প্রতি উকি দিচ্ছে যার কারনে ভয়ে সে শেষ প্রান্তে বসে রয়েছে।তার একটাই চিন্তা তার সাথে খারাপ আচরন করার যেন সেটা ভিডিও না করা হয়।সোহানকে তো দেখতে বেশ ভদ্র ছেলের মতোই দেখাচ্ছিলো।কিন্তু সে যে মেয়েদের পতিতালয়ে পাঠানোর ট্রেনিং দেই এটা চারুর জানা ছিলোনা।
সোহান হোটেল ঢুকতেই হোটেল থেকে সব ছেলেরা ভয় পেয়ে বের হয়ে আসলো।সোহান চারুর সামনে দু কাফ কফি রেখে পাশের চেয়ারে বসতেই চারু কিছুটা ভয়ে আতকে উঠলো,,

---সোহান ভাইয়া তাহলে এখন আমাকে কি করতে হবে?(তোতলা ভাবে)
---চারু আমি একটু আগেই বসের সাথে কথা বলেছি।সে বললো, সুন্দরী মেয়েরা নাকি টাকা বেশি পেলেই সেই ছেলের সাথে পালিয়ে যায়।তাই সুন্দরী মেয়ে নিতে হলে সবকিছু খুলে তাদেরকে বোঝাতে হবে।
---কিন্তু ভাইয়া এতো মানুষের সামনে কিভাবে জামা কাপড় খুলবো?(মাথা নিচু করে)
.
চলবে,,

শিক্ষনীয় একটি গল্প

শিক্ষনীয় একটি গল্প

---------------------------

বাসের মধ্যে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে আসলাম। পঞ্চাশ লাখ টাকা রাখেন। ”
-
কমিশনার সাহেব নড়েচড়ে বসলেন।
“ আরে তোমরা? এতো টাকা দিলে যে? এর আগে তো ধর্ষণের জন্য দশ লাখ টাকা করে দিতে। ”
-
“ স্যার এবারের মামলাটা ভিন্ন। পাবলিক বাসে ধর্ষণ করার কারণে কোন শালা জানি ভিডিও করে ফেলেছে। ওকে পেলে খুন করবো। ভিডিওটা ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এবার বুঝলেন কেনো পঞ্চাশ লাখ? ”
-
কমিশনার মুচকি হাসলেন।
“ আমি অতটাও বোকা না। আচ্ছা তোমাদের জন্য চা আনতে বলি? ”
-
“ না স্যার। আমাদের ভারত যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। ”
-
কমিশনার সাহেব কয়েক জায়াগায় ফোন দিলেন। বাংলাদেশ শেষ সীমানা এই থানা থেকে মাত্র দশ মিনিট দূরত্বে।
“ হ্যাঁ তোমরা আমার বাইকটা নিয়ে যাও। বর্ডারে বলে দিয়েছি, আটকাবে না। নিশ্চিন্তে যেতে পারো কোনো ভয় নেই। আর শুনো এবারে কিন্তু পাবলিক একটু গরম থাকবে। ভিডিও বলে কথা। কমপক্ষে ছয় মাস পরে আসবে। ”
-
“ সে চিন্তা আপনার করতে হবে না স্যার। ভারতের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বাবার হাত আছে। এক বছর থাকলেও সমস্যা নেই। ”

-
“ তাহলে তো হলোই। আর শুনো বাইকটা বর্ডারে রেখে যাওয়ার দরকার নেই। তোমরা নিয়ে যাও। পারলে মুখ্যমন্ত্রীকে আমার সালাম দিয়ো। ”
-
“ মনে থাকবে। এই চল। ”
-
সিফাত, রজত, আকাশ ও শুভ।
চারজন কমিশনারের গাড়িটা নিয়ে রওনা হলো। সীমান্তে কেউ আটকালো না। কমিশনারের নাম বলতেই ছেড়ে দিলো।
-
এর মধ্যে শফিক একটা দুঃসাহসিক কাজ করে বসলো। কমিশনারের ঘুষ খাওয়ার দৃশ্যটা ক্যামেরাবন্দী করে ফেললো।
-
“ ঐ শফিক। ”
“ ইয়েস স্যার। ”
“ চা আনতো। ঘুম পেয়েছে। ”
-
শফিক চা দিয়ে গেলো। কমিশনার চা খেয়েও ঘুম নিবারণ করতে পারলেন না। দুই ঘণ্টার লম্বা ঘুম।
-
ঘুমটা ভাঙতেই আবার শফিককে ডাকার সুযোগ পেলো না কমিশনার সাহেব। সামনের চেয়ারে নিজের স্ত্রীকে দেখে চমকে গেলেন।
-
“ আরে রেহানা তুমি? হঠাৎ এখানে কেনো? কখন আসলে? ”
-
রেহানা বেগম ফোনটা বের করলেন।
“ আজকে সকাল থেকে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে দেখেছো? ধর্ষণের ভিডিও। ”
-
“ দেখো বাঙালীর স্বভাব এমন। কদিন একটু ফেসবুকে চিল্লাপাল্লা করবে তারপর আবার নতুন কোনো ইস্যুতে ঘুলিয়ে যাবে! এসব নিয়ে তুমি মাথা ঘামিয়ো না। চলো বাইরে যাই। ”
-
রেহানা বেগম ফোন থেকে একটা ভিডিও বের করলেন। কমিশনারের হাতে দেয়ার আগে বললেন।
“ শফিক সাহেব ভিডিওটা আমাকে দিলেন। পঞ্চাশ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছো তুমি ওদের থেকে। ”
-
কমিশনার বেশ মাথা গরম করে চেয়ার থেকে উঠতে চাইলেন।
“ শফিকের এত্তো সাহস? ওর চাকরীর বারোটা না বাজাতে পারলে আমার নাম সুমন না। ”
-
রেহানা বেগম তাঁর স্বামীকে থামালেন। কাঁধের ব্যাগটা খুলে টেবিলে রাখলেন।
“ এখানে এক কোটি টাকা আছে। একটা কথা বলছি তোমাকে। কাউকে বলবে না কিন্তু হ্যাঁ? ”
-
কমিশনার সাহেব হাসলেন। আবার অবাকও হলেন।
“ কী কথা শুনি? ”
-
“ আমাদের মেয়েটা আজকে গাড়ি করে স্কুলে যায়নি। ড্রাইভার গ্রামের বাড়িতে গেছে। বান্ধবীদের সাথে বাসে করে স্কুলে গেছিলো। কিন্তু বাসে করে আর বাসায় ফেরেনি।
এম্বুলেন্সে_করে_ফিরেছে।
তাও_জীবিত_না, মৃত!
পঞ্চাশ লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের মেয়ের ইজ্জত লুট করা সুপুরুষদের বাঁচিয়ে দিয়ে কেমন অনুভূতি হচ্ছে আপনার কমিশনার সাহেব? ”
-
কমিশনার কোনো কথা বললেন না! কাঁপতে কাঁপতে ফেসবুক জগতে শেষবারের মতো ঢুকলেন। দুইটা ভিডিও ও শেষ বারের মতো দেখলেন।
এক, নিজের মেয়ের চিৎকারের ভিডিও!
দুই, সেই সুপুরুষদের হাত থেকে ঘুষ নেয়ার ভিডিও! ”
-
নিজের মাথায় হাত দিয়ে চেয়ার থেকে পড়ে গেলেন কমিশনার।
-
রেহানা বেগম শফিককে ডাককেল।
“ আরেকটা ভিডিও করো শফিক। এটাও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ো। ”
-
বলেই নিজের স্বামীর বুকে শোঁ-শোঁ করে কয়েকটা গুলি করলেন! এতেও ক্ষ্যান্ত নন তিনি। স্বামীর মুখে থুথু মারতে মারতে বন্যা বইয়ে দিলেন!
-
ভিডিওটা ছাড়তেই, ইন্টারনেট জুড়ে আরেকটা ভিডিও ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগলো না।

Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk Mod Apk